বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, উম্মাহর ঐক্য ও আলিম-উলামাদের পারস্পরিক সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে—এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। বর্তমান সময়ে উম্মাহর ঐক্য-সংহতি এবং আলিম-উলামাদের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধন দেশবাসীর প্রত্যাশা। এ সময় বিভাজনমূলক বক্তব্য পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তিকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত ইউনিয়ন আমির-সভাপতি ও সেক্রেটারি, সদস্য (রুকন) এবং অগ্রসর কর্মীদের নিয়ে পৃথক তিনটি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। মতপার্থক্য নিরসনে পারস্পরিক সম্মান ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা অধিকতর গঠনমূলক পথ।”
তিনি আরও বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও তীর্যক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বক্তব্য সত্ত্বেও দলটির আদর্শিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি। জামায়াত আদল-ইনসাফভিত্তিক ন্যায়ের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। জনগণের আস্থা অর্জনে দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
**সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনের আহ্বান**
‘সুন্নাতে রাসূলের আলোকে জীবন গঠন’ শীর্ষক আলোচনায় মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ঈমান-আকিদা, ইবাদত, পরিবার, সমাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাষ্ট্র ও প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুসরণ করে জীবন গঠনে দায়িত্বশীল ও জনশক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাসূলের আনুগত্য, অনুসরণ ও ভালোবাসা অর্জনে তাঁর সুন্নাহ যথাযথভাবে আমলে নিতে হবে।
রুকনদের মান সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রুকনিয়াতের শর্ত ও শপথের আলোকে ইলম, আমল এবং ত্যাগ-কোরবানির অনুশীলনের মাধ্যমে শপথের দাবি পূরণ করতে হবে।
কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরগুলোতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এসএম লুৎফর রহমান।
**চারিত্রিক শক্তিই ইসলামী আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার**
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “চারিত্রিক শক্তিই ইসলামী আন্দোলনের প্রধানতম হাতিয়ার। যতদিন আমরা নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামী আদর্শের ওপর অটল-অবিচল থাকব, ততদিন দুনিয়ার কোনো শক্তি আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।” তিনি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আলোকে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের ভিত্তি মজবুত করতে দায়িত্বশীল ও জনশক্তির প্রতি আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির নজরুল ইসলাম বলেন, আত্মার পরিশুদ্ধি মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। পরিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন অন্তর দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার মাপকাঠি। তিনি আদল, ইহসান ও ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনি ও দুনিয়াবি জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
শিক্ষাশিবিরের বিভিন্ন আলোচনা ও কার্যক্রমে অংশ নেন জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী ও মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ ও আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান, কক্সবাজার শহর আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, মাওলানা শফিউল হক জিহাদী ও জাকির হোছাইন, কক্সবাজার সদর আমির অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, রামু উপজেলা সেক্রেটারি আ ন ম হারুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহসভাপতি সাইদুল আলম ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মুহসিনসহ অন্য নেতারা।
জেলা নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর পৃথক শিক্ষাশিবিরগুলো পরিচালনা করেন।

