ভুয়া সনদে নিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব:
প্রেস রিলিজে অভিযোগ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন আজাদ ২০২১ সালে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপিসিতে নিয়োগ বাগিয়ে নেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা ও বয়স সীমা অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও জাল তথ্য ও ভুয়া সনদ জমা দিয়ে তিনি পদে আসীন হন। পরবর্তীতে তিনি এসএওসিএল-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে পুরো প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতার দাপটে দেউলিয়া করার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান।
প্রেস রিলিজে প্রকাশিত প্রধান প্রধান দুর্নীতি ও অনিয়ম:
১. ডলার ক্রয়ে ৩৬৩ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতি: বিপিসির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে এলসি খুলে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে খোলা বাজার বা এক্সচেঞ্জের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে ডলার ক্রয় দেখিয়ে সরকারের প্রায় ৩৬৩ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
২. বেসরকারি রিফাইনারিকে অনৈতিক সুবিধা: সরকারি অনুমোদনহীন কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি (যেমন— টিকে গ্রুপ ও পারটেক্স রিফাইনারি) থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের নতুন নতুন রিফাইনারি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।
৩. কম দামে বেস অয়েল বিক্রি (১২ কোটি টাকা ক্ষতি): বিপিসি নির্ধারিত বেইস অয়েলের সরকারি লিটার প্রতি মূল্য ১১৭.৮০ টাকা হলেও তা কারসাজি করে ১০৯ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে সরাসরি কোম্পানির ১২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন হয়।
৪. স্বজনপ্রীতি ও নামমাত্র দামে সরকারি সম্পদ বিক্রি:
- বিটুমিন ড্রাম বিক্রি: বাজারমূল্য প্রতি ড্রাম ৭,০০০ টাকা হলেও মোরশেদ আজাদ তার নিজ আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রতি ড্রাম মাত্র ১,৮০০ টাকায় বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা লোকসান করিয়েছেন।
শ্রমিক নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন:
শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন এই কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবৈধভাবে ১০৬ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই করেন। নির্বাচিত সিবিএ-কে কোণঠাসা করতে তিনি আওয়ামী সমর্থিত ‘ফ্যাসিস্ট’ শ্রমিক লীগকে প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালান।
সংগঠনের নেতারা জানান, সিবিএ-র বর্তমান সভাপতি কায়ছার হামিদ (যিনি বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পতেঙ্গা-হালিশহর অঞ্চলের শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তাকে রাজনৈতিকভাবে চরম হয়রানি করা হয়। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (টার্মিনেট) করা হলেও পরবর্তীতে শ্রম আদালত তা স্থগিত করেন। তার বিরুদ্ধে ৩টি সাজানো মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়।
অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও কড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:
সিবিএ নেতৃত্বের দাবি, মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন ও সরকারি জ্বালানি অডিটে গুরুতর আপত্তি উঠলেও বিপিসি ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি এখনও পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি আন্দোলন করলে এসএওসিএল-এর সমস্ত প্রডাক্ট বা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সিবিএ নেতারা একযোগে তাকে প্রতিষ্ঠানে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে অবিলম্বে চাকরি থেকে অপসারণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রেস রিলিজ প্রদানের সময় সিবিএ-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন, অর্থ সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহান এবং সহ-সম্পাদক মোঃ মহিন উদ্দিন উপস্থিত থেকে এ দাবির প্রতি জোর সমর্থন জানান।
মোরশেদ হোসাইন আজাদ এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে জানতে,মুঠোফোনে একাধিক বার তাকে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও সেখানেও কোন সাড়া মিলেনি, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
