অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী বহুজাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ফুডপান্ডা’র একতরফা, অস্বচ্ছ ও শোষণমূলক নীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম মহানগর। রেস্তোরাঁ খাতের অস্তিত্ব রক্ষায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবি না মানলে চট্টগ্রামে ফুডপান্ডার সার্ভিস বয়কট বা অর্ডার গ্রহণ স্থগিতের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬ বারকোড রেস্তোরাঁই
এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের অবস্থান ও দাবি তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তিতে সমিতি জানায়, আধুনিক অর্থনীতির যাত্রায় তারা প্রযুক্তির বিরোধী নন এবং একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব চান। তবে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা বর্তমানে যে নীতি চাপিয়ে দিয়েছে, তাতে চট্টগ্রামের হাজার হাজার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষ ও তাদের পরিবার আজ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছেন।
ফুডপান্ডার অনিয়ম ও হয়রানি:
১. লুকানো চার্জ ও অতিরিক্ত ফি: চুক্তিপত্রে নির্দিষ্ট কমিশনের বাইরে অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, কমিশনের উপর ভ্যাট, ট্যাব ফি এবং ইন্টারনেট ফি কেটে নেওয়া হয়, যা লাভের অংশ মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।
২. অস্পষ্ট ও জটিল ইনভয়েস: মাসের হিসাব এতই জটিল যে সাধারণ হিসাবরক্ষক বা মালিক তা বুঝতে পারেন না। কোন খাতে কেন টাকা কাটা হলো, তার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকে না।
৩. অর্ডার বাতিলের একতরফা দায়: ফুডপান্ডার নিজস্ব প্রযুক্তিগত বা ডেলিভারি জটিলতায় অর্ডার বাতিল হলে, তৈরি করা খাবারের পুরো লোকসান রেস্তোরাঁকেই বহন করতে হয়।
৪. AWTF ও লেট চার্জের অত্যাচার: রাইডার দেরিতে খাবার সংগ্রহ করলে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করেন, আর তার খেসারত ও জরিমানা চাপানো হয় রেস্তোরাঁ মালিকের উপর।
৫. একতরফা রিফান্ড কর্তন: কোনো প্রমাণ যাচাই বা রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনেই গ্রাহকের অভিযোগে একতরফাভাবে রেস্তোরাঁর পাওনা টাকা কেটে নেওয়া হয়।
৬. টাকা আটকে রাখা: বিক্রির টাকা পরিশোধে ১৩ দিন বা তারও বেশি সময় লাগানো হয়, ফলে চলতি মূলধনের সংকটে পড়ে কর্মচারীদের বেতন ও দোকান ভাড়া দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবি:
১. কমিশনের বাইরে সকল প্রকার লুকানো চার্জ অবিলম্বে বাতিল করে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ফ্ল্যাট ১৫% কমিশন (অল ইনক্লুসিভ) নির্ধারণ করতে হবে।
২. সহজ, স্পষ্ট ও খাতওয়ারি হিসাবসহ স্বচ্ছ ইনভয়েস প্রদান করতে হবে।
৩. রেস্তোরাঁর দোষ ছাড়া বাতিল অর্ডারের খাবারের সম্পূর্ণ খরচ ফুডপান্ডাকে বহন করতে হবে।
৪. রাইডারদের দেরির জন্য রেস্তোরাঁর উপর AWTF ও লেট চার্জ চাপানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৫. গ্রাহকের অভিযোগে একতরফা রিফান্ড কাটা বন্ধ করে, আগে প্রমাণ যাচাই ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য শুনতে হবে।
৬. প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে (সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে) বিক্রির টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
অলটিমেটাম ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি:
বিজ্ঞপ্তিতে ফুডি-র মতো দেশীয় প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ টেনে বলা হয়, দেশীয় প্রতিষ্ঠান যদি মাত্র ১৫% অল-ইনক্লুসিভ কমিশনে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, তবে ফুডপান্ডার এই শোষণমূলক নীতি মেনে নেওয়া যায় না।
চট্টগ্রাম মহানগর রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে না নিলে, চট্টগ্রাম নগরের সকল রেস্তোরাঁ মালিক একযোগে ফুডপান্ডা প্ল্যাটফর্মে অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা বন্ধ রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
একই সাথে অনলাইন ফুড ডেলিভারি খাতের জন্য একটি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
