বুধবার (২১ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ এলাকা থেকে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃত অপর পাঁচজন হলেন— মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়ী এহছানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় অপহরণকারীদের কয়েকজনের পরনে এসআরবির (SRB) বিশেষ পোশাক পরিহিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক সেনা ও র্যাব সদস্য সুমন মুন্সির নেতৃত্বে অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জন মিলে তাঁকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে অপহরণকারীরা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে এহছানের স্ত্রী ও তাঁর দোকানের ব্যবস্থাপক মোজাফফর উদ্দিনের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ১৯ অক্টোবর বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নম্বর: ২৭)। মামলার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে টেকনাফ এলাকা থেকে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে, ব্যবসায়ী এহছানকে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধারের খবরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সফল অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে উদ্ধার করায় পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন।
