সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ইজারা অনুমোদনের আগেই অবৈধ দখল
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক কারখানা স্থাপনের জন্য মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিংগুলী মৌজায় রেলওয়ের ৩.৭৫৬৪ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ পেতে আবেদন করেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে ইজারা মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে জমিটি দখলে নেন। সেখানে ৬ হাজার ৪৮৯ বর্গফুটের সেমিপাকা কারখানা এবং ৯৯০ বর্গফুটের একটি দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ শুরু করেন তিনি।
এছাড়া অন্যের নামে কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য লিজ দেওয়া জমি এবং বিএস ৫১২০ দাগের পুকুর ভরাট করে দখলের অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালা শিথিল ও অতিরিক্ত জমি ব্যবহার
এজাহারে বলা হয়, ২০১৭ সালে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা শিথিল করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর নির্দেশনায় গ্যাসমিন লিমিটেডকে বিএস ৫১১৯ দাগ থেকে মাত্র ০.৭৪ একর (৩২,১৩০ বর্গফুট) জমি বার্ষিক নবায়নের ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়।
তবে দুদকের সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনুমোদিত ০.৭৪ একর জমির বিপরীতে বিএস ৫১১৯ ও ৫১২০ দাগের মোট ২.২৮ একর (২২৮ শতক) জমি দখলে রেখে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন রুহেল। বর্তমানে উক্ত দখলকৃত জমিতে কারখানা, অফিসকক্ষ, মসজিদ, অজুখানা, পানির ট্যাংক এবং ব্লক শুকানোর বড় মাঠ রয়েছে।
১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি
দুদকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত ০.৭৪ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করা হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে দখলে থাকা ২.২৮ একর জমির বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা। ফলে অতিরিক্ত ১৫৪ শতক জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ লাখ ১১৭ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে অপরাধের সময়কাল হিসেবে ধরা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ (অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ৪২৭ (ক্ষতিসাধন) ও ৪৪৭ (অবৈধ দখল) ধারায় মামলাটি করা হয়।
দুদক জানায়, তদন্তকালে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
