চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা লক্ষ্মণ সেনের মতো পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এতিম করে রেখে গেছেন। এখন তিনি আবার দেশে ফিরে আসবেন—এমন রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি; তাকে আসামি হিসেবেই দেশে ফিরে আইন ও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে চকবাজার ও বৃহত্তর বাকলিয়া থানা বিএনপি আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “রাজনৈতিকভাবে পরাজিত ও বিতাড়িত শক্তিকে দেশে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে একটি চক্র সহিংসতা ও নাশকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। সাবেক রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র রচনা করা হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও দেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ।” তিনি স্পষ্ট জানান, দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যেকোনো মূল্যে সন্ত্রাস, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সাথে দেশের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে দলের ঐতিহ্য ও বদনাম হয়। সুবিধাবাদী ও ‘হাইব্রিড’দের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনো অপকর্মের সুযোগ না পায়।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “পলায়নকৃত স্বৈরশাসক আর কখনোই বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না। সংসদ ও রাজপথ—সব জায়গায় বিএনপি জনগণের পক্ষে সোচ্চার। ব্যাংক দখল বা চাঁদাবাজির মতো যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে এবং মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপুসহ কোতোয়ালি, চান্দগাঁও ও ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে বাকলিয়া এক্সেস রোড থেকে একটি সুবিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি চন্দনপুরা, গনি বেকারারি ও জামাল খান মোড় অতিক্রম করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
