চট্টগ্রামে ঈদের আগেই সেমাই কারখানায় তুমুল ব্যস্ততা

মোঃ মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম।

ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের চর চাক্তাই রাজাখালী এলাকায় সেমাই কারখানায় এখন তুমুল ব্যস্ততা। এখানকার সেমাই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।দেশে বছরে সেমাইয়ের চাহিদা প্রায় ৩০ হাজার টন। যার মধ্যে ২০ হাজার টন উৎপাদন হয় রমজান আর ঈদ ঘিরে। যার বাজারমূল্যে সাড়ে সাতশ থেকে একহাজার কোটি টাকা।

দেশি সেমাই’ বলে পরিচিত হলেও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এটি ‘ফইর হবিরর ছেমাই’(ফকির কবিরের সেমাই) বলেই একনামে পরিচিত। যুগের পরিবর্তনে এই সেমাইয়ের দোকান কিছুটা আধুনিকতার এসে এর নাম হয়েছে মেসার্স ফকির কবির। বেকারি পণ্য তৈরি করলেও সেমাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সুনাম রয়েছে।স্বাদে ও গুণে তারা এখনো পর্যন্ত সেই সুনাম বজায় রেখেছেন।এবারও বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সেমাই পৌঁছে দিতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেমাই তৈরি করছেন তারা।

চকবাজারের ফকির কবিরের বেকারিতে দেখা যায়, প্রথমে ময়দার খামি তৈরি করা হয়। পরে খামিগুলো দেয়া হয় হাতে চালিত যন্ত্রের ভেতর। ঘানি ঘুরানো মতোই দুজন যন্ত্রটি ঘুরাতে শুরু করেন। আর নিচে প্রস্তত হয়ে পড়তে থাকে সেমাই।

এরপর সেমাইগুলোকে রোদে শুকিয়ে তুলে দেয়া হয় ব্রয়লারে। এরপর তা ভেজে লালবর্ণ ধারণের পর প্রস্তুত হয় বিক্রির জন্য।

দোকানে সেমাই কিনতে আসা বাকলিয়া ডি সি রোড এলাকার এক নারী ক্রেতা বলেন, ‘আমি প্রতিবছর এখানের সেমাই কিনেতে আসি।ঈদে অতিথিদের অপ্যায়নে জন্য এই সেমাই ১-২ কেজি কিনি।

চট্টগ্রাম বনফুলের এক কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমাদের লাচ্ছা সেমাই সারাবছরেই চলে, তবে ঈদ উপলক্ষে এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।’

কর্মকর্তা আরো জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার টন সেমাইয়ের চাহিদা আছে। যার ২০ হাজার টনই উৎপাদনই হয় রমজান ও ঈদে। যাতে আয় হয় সাড়ে সাতশ থেকে একহাজার কোটি টাকা।

এসব সেমাই এর মধ্যে বাজারে লাচ্ছা সেমাইয়ের বেশিরভাগই দখলে রেখেছে বনফুল, ওয়েলফুড, কুলসন, প্রাণ কোকোলার মত প্রতিষ্ঠানগুলো। বড় বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অঙ্গীকারে এসব প্রতিষ্ঠানের সেমাই এখন গ্রাহক চাহিদার শীর্ষে।

আরও পড়ুন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি সেমাই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, দেশেও চাহিদা বাড়ছে প্রতিবছর। তাই আগামীতে সম্ভাবনা দেখছেন এ খাতের উদ্যক্তোরা।

তবে এবার বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ড সব ধরনের সেমাইয়ে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন