বিশ্বস্ত হজ্ব ও উমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান “ট্রাভেল জোন”-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৫” যা এবারের হজ্বযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী এক আয়োজন।
২৬ এপ্রিল (শনিবার) নগরীর আর.বি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আসন্ন হজ্ব পালনেচ্ছুক শতাধিক মুসল্লি সহ ১ হাজার নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। যেখানে হজ্বের ইতিহাস, করণীয়-বর্জনীয়, নিয়ম-কানুন এবং একজন আদর্শ হাজীর পরিচয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
ট্রাভেল জোনের মুয়াল্লিম আবু সায়েম মুহাম্মদ কাইয়ুম’র সঞ্চালনায় ও এমদাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের, উদ্ভোধনী বক্তব্য রাখেন ট্রাভেল জোনের সত্ত্বাধিকারী মোজাহেদ হোসেন মিঠু, মো: ইব্রাহিম এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন কাজী আব্দুল হক শাহেদ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক মুহাম্মদ মহসিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মাওলানা সোহাইল উদ্দিন ও মাওলানা সৈয়দ হেলাল চিশতি।
কর্মশালায় হজ্ব বিষয়ক বিশিষ্ট আলেম ও মুফতিগণ হজ্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন হজের মৌসুমে হজ পালনের জন্য প্রতিবছর সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ মক্কায় পবিত্র কাবা চত্বরে আগমন করে। দেশ, জাতি, ভাষা, বর্ণ প্রভৃতি ভুলে মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মিলেমিশে হজ আদায়, করে। সকলের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। এভাবে হজের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়।
বস্তুত, হজ্জের এসব কার্যাবলি পরোক্ষভাবে সাম্য ও সম্প্রীতির জয় ঘোষণা করে। এছাড়াও হাজীগণ ভেদাভেদের সকল প্রাচীর ভেঙ্গে আরাফাতের ময়দানে দাড়িয়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে এবং কখনো কুরবানীগাহে পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে আল্লাহর সাথে মহব্বতের শপথ গ্রহণ করে। আবার রাজা-প্রজা ,
সাদা-কালো, বেঁটে-লম্বা একই সুরে, তালে তাল মিলিয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকেই ১০ই যিলহজ্জ মিনায় বড় শয়তানকে কংকর মারার পূর্ব পর্যন্ত তাদের এ একই ধ্বনিতে হেরেমের গোটা পরিবেশ গুঞ্জরিত হতে থাকে – লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লাব্বাইকা লা শারীকালাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা শারীকালাক।
প্রকৃত পক্ষে হজ্জের এসব কার্যাবলি আল্লাহর সাথে প্রেমপূর্ণ সম্পর্ক, মন ও চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এক যুগান্তকারি ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে শর্ত এই যে, হজ্জ শুধু মাত্র যেন অনুষ্ঠান পালনের নাম না হয়। আর এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, সমগ্র দুনিয়ার মুসলমানদের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ইসলামী মহাসম্মেলন একমাত্র হজ্জ। বর্তমান বিশ্বের শাসন ক্ষমতা মুসলমানদের হাতে নেই। সারা দুনিয়ার মুসলমানগণ আজ নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং অবহেলিত। আর এ অবস্থার জন্য মুসলমানদের ঐক্যহীনতাকেই সর্বাগ্রে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব মুসলিমের ওপর যে নির্যাতন চলছে তার অবসানকল্পে মুসলমানদের আন্তর্জাতিক ভাবে ঐক্যের প্রয়োজন। যেহেতু হজ্জের সময় সকলের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান এক ও অভিন্ন, তাদের রয়েছে জীবনযাত্রার মিল, অনুভূতির মিল। এসবের প্রত্যেকটি বিষয়ই মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।
অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ ডিপুটি জেনারেল (মার্কেটিং), ম্যানেজার এ.কে.এম শহীদুল ইসলাম, (সি.আই.ডি এডিশনাল ডি.আই.জি মোহাম্মদ আমির জাফর- (ক্রাম অপেরেশন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, মোঃ হুমায়ুন কবির-সি.এম.পি উত্তরের -এ.ডি.সি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, (সি.এম.পি) ট্রাপিক দক্ষিণের -ডি.সি মোহাম্মদ লিয়াকত আলী ,চাঁঁন্দগাও থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, ড.এ.এস.এম শওকতুল ইসলাম, তামাকুমুন্ডী লেইন বণিক সমিতি সভাপতি মোঃ সরওয়ার কামাল,সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বধারা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, কালবেলার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, এডভোকেট ওসমান সাহেব, সি.আই.পি কামাল পাশা, ট্রাভেল জোন,ঢাকার জি.এম. মুশফিকুর রহিম আব্বাসী।
প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্তিতি ছিলেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ। বিশেষ আলোচক মাওলানা আবুল লাইচ মুহাম্মদ আজিজুল মান্নান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা কাজী এ.বি. এম মুহিবুল্লাহ।
কর্মশালায় ব্যবহারিক দিক, ইহরাম বাঁধা, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফ, সাঈ, মিনায় যাওয়া, কুরবানী ইত্যাদি নিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিস বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এনামুল হক মোজাদ্দেদীর মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
