কক্সবাজারের সম্ভাবনাময়ী এবং লবণ ও মৎস্য চাষের এলাকা হিসাবে খ্যাত উপজেলা পেকুয়া। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল মোহনা ও খরস্রোতা মাতামুহুরী নদীর কুল ও ভোলাখালের তীরবেষ্টীত পেকুয়া উপজেলা। ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল পেকুয়ার ক্ষণজন্মা সন্তান সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রচেষ্টায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চকরিয়া থেকে পমথক করে পেকুয়াকে আনুষ্ঠানিক উপজেলা ঘোষণা করেন।
অনেক চরাই উতরাই পার করে উপজেলাটির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপিসহ পেকুয়ার মানুষ। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অধিদফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্টানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। নব বধু হিসাবে সাজানো হয়েছে পেকুয়াকে। বিএনপি এবং চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে বিগত ২০০২ সালে ২৭ এপ্রিল বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে ৫টি ইউনিয়নকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠিত হয় পেকুয়া উপজেলা।
সালাহ উদ্দিন আহমদ পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামের শিক্ষাবিদ মরহুম মৌলভী সাইদুল হক ও মরহুম আয়েশা হকের সন্তান।
২০০২ সালে ২৭ এপ্রিল বৈশাখের তাপদাহে লাখো মানুষের উপস্থিতি ও মেজবানের মাধ্যমে তৎকালীন বিএনপি তথা চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণে পেকুয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেন।
এ ধারাহিকতায় বারবাকিয়া ও মগনামা ইউনিয়নকে পৃথক করে শীলখালী এবং উজানটিয়া ইউনিয়ন নামে আরো ২টি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে। অথাৎ ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়। ঐদিনের জনসভায় চট্টগ্রামের মন্ত্রী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ডজনখানেক মন্ত্রী-এমপি ও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়বেষ্টিত ও কাঁদায় পরিপূর্ণ এলাকাকে ২২ বছর আগে উপজেলায় সাঁজিয়েছে বহুরূপে। উপজেলা পরিষদের জন্য ৪তলাবিশিষ্ট বেশ কয়েকটি বড় ভবন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ২টি ৪তলা ভবন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জন্য আলাদা বাসভবন নির্মাণ করা হয়। উপজেলা পরিষদে আসা লোকজনের ইবাদতের কথা চিন্তা করেও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল আকারের জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আজ ২২ বছর পূর্ণ হলেও উপজেলা পরিষদের এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি অনেক দপ্তরে কর্মকর্তা। জোড়াতালি দিয়েই চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। মামলা মোকাদ্দমা নিষ্পত্তির জন্য এখনো বসানো হয়নি আদালত। পেকুয়ার মানুষকে চকরিয়ার আদালতে গিয়ে বিচার প্রক্রিয়ার কাজ করতে হচ্ছে।
পেকুয়ায় উপজেলা হওয়ায় আদালত ছাড়া প্রায় সবকিছু চকরিয়া থেকে পৃথক হয়ে গেছে। কিন্তু পেকুয়াবাসীর একটি দুঃখ রয়েই গেছে। প্রতিষ্ঠার ২২ বছরেও পেকুয়ায় স্থাপিত হয়নি সোনালী ব্যাংকের শাখা। যার ফলে সরকারি কার্য পরিচালনার লেনদেন করতে যেতে হয় চকরিয়া উপজেলায়। পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার কারণে পেকুয়ার মগনামায় বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সাব-মেরিন নৌঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে ২১°৪৩´ থেকে ২১°৫৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৩´ থেকে ৯২°০২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশজুড়ে অবস্থিত পেকুয়া উপজেলার আয়তন ১৩৯.৬৮ বর্গ কিলোমিটার। পেকুয়া উপজেলার পশ্চিমে কুতুবদিয়া উপজেলা, দক্ষিণে মহেশখালী উপজেলা, পূর্বে চকরিয়া উপজেলা এবং উত্তরে চট্টগ্রামের বাশঁখালী উপজেলা অবস্থিত। পেকুয়া উপজেলার মানুষ সাধারণত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। এই উপজেলায় নৃতাত্বিক রাখাইন জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যাদের ভাষার প্রভাব স্থানীয় ভাষায় লক্ষ্য করা যায়। পেকুয়া উপজেলাটি ভোলাখালের মাধ্যমে দ্বি-খণ্ডিত হয়েছে। নদীর দুই তীর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বেড়িবাধ নির্মাণ করা আছে।মাতামুহুরী এবং পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ের ছোট ছোট ছড়াগুলো মিলিত হয়েছে ভোলাখালে। এটি শিলখালী, বারবাকিয়া, পেকুয়া, মগনামা, উজানটিয়া ও রাজাখালীর পাশ দিয়ে মিলেছে বঙ্গোপসাগরে। একসময় এ নদীই ছিল পেকুয়া উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানেও সীমিত আকারে এ নদীর মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মালামাল নৌকাযোগে বহণ করা হয়। তাছাড়া এই নদীর পানি দিয়ে শীতকালীন সবজি ও ধান চাষের জন্য সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ একটি রাবার ড্যাম স্থাপন করে দেন। নদী হতে মাছ আহরণ করে জেলেরা জীবিকা করে। কয়েকটি ইউনিয়ন সমুদ্রতীরবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ প্রাচীনকাল হতেই দুর্যোগ এবং উত্তাল সাগরের সাথে সংগ্রাম করে টিকে আছে। প্রাচীনকাল থেকেই পেকুয়া উপজেলার জনগোষ্ঠী খেলাধুলা ও বিনোদনপ্রেমী। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলার মধ্যে বলী খেলা (কুস্তি) ও গরুর লড়াইও পিছিয়ে নেই। প্রতিবছর বৈশাখ মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয় । পেকুয়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়া উপজেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠ অন্যতম। এছাড়া অনেক বিখ্যাত জ্ঞানী-গুণীর জন্মও এ পেকুয়া উপজেলায় । শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে পেকুয়ার মানুষ। এজন্যই পেকুয়ার মানুষ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদকে নিরাশ করেননি অতীতে।
এদিকে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পেকুয়া প্রেস ক্লাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে পাক্ষিক পেকুয়ার সম্পাদক মোহাম্মদ ছফওয়ানুল করিমের নেতৃত্বে আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। এছাড়া পেকুয়া প্রেস ক্লাব ও পাক্ষিক পেকুয়ার উদ্যোগে র্যালি ও উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে সুধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ দৈনিক রূপসী গ্রামকে বলেন, জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াকে উপজেলা করার পর পেকুয়ায় আজ অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সালাহউদ্দিন পেকুয়াকে বাংলাদেশের মডেল একটা উপজেলায় রূপান্তর করতেন। উন্নয়নের দিকে কোন কিছু পিছিয়ে থাকত না।আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পেকুয়াকে একটি পরিপূর্ণ উপজেলায় পরিণত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আজ সকালে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিষ্টিমুখ, মোনাজাত ও ১০ হাজার ব্যানার,ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটানো হয়েছে
