logo
ভয়াল স্মৃতি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, ৩৪ বছরেও নির্মিত হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধ
সংবাদ প্রকাশিত:

ভয়াল স্মৃতি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, ৩৪ বছরে ও নির্মিত হয়নি উপকূল এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ।সাগরের গর্জন শুনলে এখনো পালিয়ে বেড়ায় এই জনপদের বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এর ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে ফেলেছে। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের নাম ও সময়কাল ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়টি ২৯ এপ্রিল রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। যদিও এ ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট নাম ছিল না (আধুনিক ঘূর্ণিঝড় নামকরণের প্রথা তখন চালু হয়নি), এটি “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়” নামেই পরিচিত।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির চিত্র:
এই ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ছিল ক্যাটাগরি-৫ লেভেলের, ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি বেগে বাতাস প্রবাহিত হয় এবং সঙ্গে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস।

নিহত মানুষের সংখ্যা: আনুমানিক ১,৩৮,০০০ (১ লক্ষ ৩৮ হাজার) মানুষ মারা যান।

আহত ও নিখোঁজ: লক্ষাধিক মানুষ আহত ও নিখোঁজ হন।

গৃহহীন: প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি: বিশ্বব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়।

প্রভাবিত জেলা সমূহ:
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মহেশখালী, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, এবং নোয়াখালী ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বহু চরাঞ্চল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে টেকসই বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে জলোচ্ছ্বাস আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধের প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
★ জীবন ও সম্পদ রক্ষায়: গ্রামীণ ও উপকূলীয় জনগণের জীবনরক্ষা এবং তাদের ফসল ও ঘরবাড়ির সুরক্ষায় মজবুত বাঁধ অপরিহার্য।
★ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
★ জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি: টেকসই বেড়িবাঁধ এবং বায়ুপ্রতিরোধী অবকাঠামো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
★ প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ: ম্যানগ্রোভ বন ও বাঁধ মিলে ঘূর্ণিঝড়ের গতি ও প্রভাব কমাতে সহায়ক হয়।
মোদ্দাকথা,
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের জন্য ছিল এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। কিন্তু এই দুর্যোগ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে — প্রস্তুতি ও প্রতিরোধই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে। তাই ভবিষ্যতের জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বেড়িবাঁধ যা মার্কিন মুলকের মিসিশিপি নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের আদলে নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন  পেকুয়ায় যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩