বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের (এমপিএল) মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মো. মফিজুর রহমানকে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়ন করা হয়। এতে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
মফিজুর রহমান পিওসিএল-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত ও বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
জানা গেছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, ১৪ মে (বুধবার) যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর চেয়ারম্যানের কাছে ইমেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।
প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান ৪ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তার স্ত্রী বাস করেন এবং অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নেন তিনি। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশে ফিরে কাজে যোগ দেননি।
১৩ মে পদ্মা অয়েল কোম্পানির বোর্ড সভায় তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব জাফর উল্লা খান জানতে চান এমডি কোথায় আছেন। জবাবে কোম্পানি সচিব আলী আবছার জানান, তিনি ছুটিতে দেশের বাইরে আছেন। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডে ব্যাপক আলোচনা হয়।এর পরদিন ১৪ মে তিনি ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান।
সূত্র আরও জানায়, প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে এলপি গ্যাস ও বিটুমিন বিপণনে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালাচ্ছে। এসব অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অনেক কর্মকর্তার ধারণা, এই অভিযোগগুলো থেকেই রক্ষা পেতে তিনি ‘নীরব পলায়ন’ এর পথ বেছে নিয়েছেন।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তিনি পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তার আগে তিনি এলপি গ্যাস লিমিটেডের (এলপিজিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পদ্মা অয়েল সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সোবহানের যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড রয়েছে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানে বসবাস করেন। এর আগেও গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসা জটিলতায় পড়েন তিনি। এবার তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
