বাঁশখালীতে মা-বাবা হারা অবুঝ ৩ শিশুর মানবেতর জীবন কাটছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে গভীর রাতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে খুন করে স্বামী।
এই ঘটনার পরেই স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার হন স্বামী, পরে হাসপাতালে মারা যান সে।
গত ১১ এপ্রিল বাঁশখালী উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ইলশা শেওলা বাপের নতুন বাড়িতে ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা গ্রামের এই ঘটনা ঘটে।
পরপর মা-বাবা দুজনকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে অবুঝ এই তিন শিশু।বর্তমানে তারা মামার সাথে নানার বাড়িতেই রয়েছে বলে জানা যায়। এতিম এই তিন শিশু নানার বাড়িতে আশ্রয় নিলেও মামাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুবই শোচনীয়। এই শিশুর মধ্যে বড় মেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে, আট বছর বয়সী মেয়ে ইম্মে হাফসা থেলাসেমিয়া রোগ আক্রান্ত হওয়ায় তার শরীরে প্রতিমাসে দু’বার করে রক্ত দিতে হয়। এই মেয়ের চিকিৎসা ও ঔষধ বাবদ প্রতিমাসে চার হাজারের বেশি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। ছোট ছেলে আবদুল্লার বয়স ২ বছর।
মা-বাবা হারা এই তিনটি এতিম শিশুসহ পরিবারের খরচ বহন করা দিনমজুর মামার পক্ষেও প্রায় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন সংকটকময় পরিস্থিতিতে এতিম এই তিন শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এই এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এলাকার বিত্তশালীদেরকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, নানীর সাথে বসে আছে অবুঝ এই তিন শিশু।তার মধ্যে ৮ বছর বয়সী ইম্মে হাফসা সাথে কথা হলে সেই বলে, আমার মাও নেই বাবাও নেই আমারও বেশ অসুখ। আমার ঔষধ কিনতে নানু এবং মামার কাছে টাকা নেই। আমরা খুব কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছি, আমাদের কেউ সাহায্য সহযোগিতা করলে আমরা কোন মতে ভালোভাবে চলতে পারতাম। এসব কথা বলেন অসুস্থ মেয়ে উম্মে হাফসা।
বড় মেয়ের ইম্মে হাবিবা বলেন,আমি এই বয়সে আমার মা বাবাকে হারিয়েছি এবং মা-বাবার মৃত্যু দেখেছি, আমি নম্বর শ্রেণিতে পড়াশোনা করি আমার আরও একটি ৮ বছর বয়সী বোন এবং দুই বছর বয়সী একটি ছোট ভাই আছে। তার মধ্যে ছোট বোন ইম্মে হাফসা থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত, তাকে মাসে দুবার রক্ত দিতে হয়,অন্যদিকে আমার মামারাও আর্থিক ভাবে তেমন সচ্ছল নয়, অপরদিকে আমার চাচারাও আমাদের কোন খোঁজ খবর নেন না, আমার এই ভাই-বোনদের নিয়ে কিভাবে জীবন যাপন করব কিছুই বুঝতে পারছি না, আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছি,সরকার ও এলাকার বিত্তশালীরা যদি আমরা এই এতিমদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে কোনমতে জীবন যাপন করতে পারবে বলে জানান উম্মাহ হাবিবা।
নানীসহ স্বজনরা বলেন, এই শিশুর মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। মা বেচে থাকলে এই তিন সন্তনকে এতিম হয়ে বাঁচতে হতো না। স্বামী না থাকলে মেয়েটি থাকতো অথবা মেয়ে না থেকে তাদের বাবা বেচে থাকলে কোন না কোন ভাবে ছেলে মেয়েরা কোন মতে চলতে পারতো মানুষ হতে পারতো। আমাদেরও তেমন আত্ম সম্বল নাই।কোন মতে কৃষি কাজ করে পরিবার নিয়ে কষ্টের সংসার নিয়ে দিনাতিপাত করছি।তার মধ্যে মেজো মেয়টিকে প্রতিমাসে রক্ষা দেওয়া লাগে।বড় মেয়ের পড়াশোনার খরচ পোশাক-আশাক আছে।ছোট ছেলেটিরও শ্বাসকষ্ট আছে, তাকেও চিকিৎসা করাতে হয় এতো খরচ চলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।অবুঝ এই তিন শিশুকে নিয়ে আছি খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন বলে জানান। এবিষয়ে খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ইতিমধ্যে মা-বাবা হারা অসহায় এতিম শিশুদেরকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আমার সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করেছি।
আগামীতেও আমার পক্ষ থেকে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেনো ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারে সরকারি সহযোগিতার আওতায় আনার জন্য আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।সকলের উচিত এই অসহায় এতিম শিশু গুলোর পাশে দাঁড়িতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
