বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রাম সাতকানিয়া পাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর গাছ কাটার ঘটনায় আসামিরা অন্তবর্তী জামিনে এসেই বেপরোয়া হয়ে কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে চলাচল পথ বন্ধ করে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।এনিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।এর আগেও স্থানীয় ফারুক, আবদুল মুবিন, আজগর আলী, আবদুল কাদের ও রুবেলের নেতৃত্বে জায়গা জবর দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে বিগত ১১ ডিসেম্বর বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত উক্ত জায়গায় হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশনা দেন।তাছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছ কেটে জায়গা দখল চেষ্টা সরাসরি পরিদর্শন করে জায়গা জবর দখল থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুশিয়ারী দেন।কিন্তু আসামিরা জামিনে এসেই গত বৃহস্পতিবার বিশাল এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে চলাচল পথ বন্ধ করে জায়গা জবর দখল করে নেন। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।জানা গেছে,বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রাম সাতকানিয়া পাড়া এলাকায় কালামিয়ার ছেলে আজগর আলী,আবদুল মজিদের ছেলে আবদুল কাদের, জাকের আহমদের ছেলে রুবেল, কালামিয়ার ছেলে আবদুল মুবিন, মৃত আবদুল জলিলের ছেলে মো.ফারুক, হোসেন আহমদের ছেলে রুবেল ও আবদুর সাত্তারের ছেলে ফোরকানের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল তৈরি করে গত ডিসেম্বর মাসে আমান উল্লাহর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ এয়াছিন এর মালিকানাধীন জায়গায় ফলজ গাছ কেটে লুটপাট চালায়।এসময় তারা এয়াছিনের জায়গা দখল করার উদ্দেশ্যে কয়েকবার বাগানে মহড়া দিয়ে গাছ কেটে ফেলে।সেদিন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।সেনাবাহিনীর একটি দলও ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। এসময় তারা পার্শ্ববর্তী সরকারি কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে দেয়।এসব ঘটনায় মামলা হলে কিছু দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বর্তমানে আবারো এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।আসামিরা সম্প্রতি মুচলেকা
দিয়ে অন্তবর্তী জামিনে এসে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে।তারা গত বৃহস্পতিবার কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে চলাচল পথ বন্ধ করে জায়গা জবর দখল করে নিয়েছে।বাদী মাওলানা মোহাম্মদ এয়াছিন জানান,গত ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক আমার পৈত্রিক ও আমার নিজস্ব বাগান হতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ গাছ কেটে নিয়ে যায়।খবর পেয়ে আমি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে অবহিত করি।পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এনিয়ে আমি বাঁশখালী সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি।কিছু দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও আসামীরা বিগত ১৮ মে তারিখে জামিনে এসে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।তারা আমি এবং পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকিসহ কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে চলাচল পথ বন্ধ করে দিয়েছে।এনিয়ে আমি আবারো আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত জায়গা জবর দখল ও চলাচল পথ বন্ধ না করতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তারা আইন আদালতের তোয়াক্কা না করে কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে জায়গা দখল করে নিয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে চলাচল পথও।ওই পথ দিয়ে অর্ধশত পরিবারের কয়েকশত মানুষ চলাচল করেন। আসামীরা বর্তমানে মামলার স্বাক্ষীদেরও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার নতুন করে সেনাবাহিনী ক্যাম্পসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালীতে কালীপুরে চাঞ্চল্যকর গাছ কাটার ঘটনা,আসামিরা অন্তবর্তী জামিনে এসে বেপরোয়া
Posted By mmohi On In অপরাধ | Comments Disabled