তাঁদের যুদ্ধ কখনো বৈরি আবহাওয়ার সাথে, আবার কখনো ঘূর্নিঝড়, বন্যা, খরার সাথে। এসব যুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুগ যুগ ধরে লড়াই করে আসলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলা তাঁদের আমৃত্যু সঙ্গী। নিরব-নিভৃতে থাকা সেই মানুষগুলো এবার ফুসে উঠেছে, নিজেদের দাবি নিয়ে নেমে এসেছে রাস্তায়। ঠেকসই বেড়িবাঁধ, ঘূর্নিঝড়কালীন সময়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র এবং দুঃসহ ভোগান্তির রাস্তা সংস্কারের দাবী নিয়ে শুক্রবার স্থানীয় ১নংপাড়া মাদরাসা মার্কেট এলাকায় জমায়েত হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের দাবী তুলে ধরেছেন সংবাদ মাধ্যমকে।

জানাযায়,বাঁশখালী উপজেলাধীন ১২নং ছনুয়া ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল ৯নং ওয়ার্ডের প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি জনগণের একমাত্র সড়কপথ মিয়া জান সড়ক। যে সড়কটি গত ২০২০ সালে প্রথমবারের মত ব্রিক সলিন হয়। যেটি উপজেলা ইউনিয়নের ৪১৫০৮৫০৭১ আইডির মিয়া জান সড়ক নামে পরিচিত। যার দৈর্ঘ ৩.৫৫ কিলোমিটার। , সড়কটির মেয়াদ ৪ বছর না হতেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ভারী মালামালের যানবাহন ও হাজার কেজি ওজনের লবণ বোঝায় গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটি বর্তমানে ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া, ১নংপাড়া ও মোহাজের পাড়া মানুষের দুঃখে পরিণত হয়েছে।
লবণের মৌসুমে লবণের ব্যবসায়ীরা যথেচ্ছাচারের মাধ্যমে লবণ বোঝায় গাড়ি টানাতে রাস্তাটি দ্রুতই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে বর্তমানে রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল সবচেয়ে অনিরাপদ ও বিপদ-আপদে দূর্ভোগের চরম লেভেলে পৌঁছে। একজন অসুস্থ কিংবা গর্ববতী মা ও শিক্ষার্থীরা চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধর্না দেয়া হলে আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন দেখেননি এলাকাবাসী।
ছনুয়া ৯নং ওয়ার্ড উন্নয়ন ফোরাম কর্তৃক আয়জিত এই মানবন্ধনে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী বেড়িবাঁধ সংস্কারের আহবান জানিয়ে তাঁরা বলেন একটু জোয়ার হলেই, একটু সতর্ক সংকেত দেয়া হলেই আমাদের উৎকন্ঠা বাড়তে থাকে কখন সাগরের বুকে ভেসে যাই। স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ হেলাল জানান, ‘ ছোট ছনুয়া, খুদুকখালী, ছেলবন এলাকার প্রায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় শক্তির কারনে সৃষ্ট জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল ইউনিয়ন।
এই বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভেসে যাবে ছনুয়ার উপকূল।
সরেজমিনে দেখা যায় ইউনিয়নের মিয়াজান সড়কটির অবস্থা বর্ণনাতীত। ভূমির সাথে প্রায় মিশে গিয়েছে বলা যায়। এই গ্রামীণ রাস্তায় মহাসড়কের ভারী ভারী যানচলাচল বিশেষ করে লবণের গাড়ি চলাচলকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী। ভারী যানচলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী অপর সড়ক আশরাফ আলী সড়কেরও সংস্কারের দাবী জানান। অনতিবিলম্বে বন্ধ কাজ চালু করার দাবি জানায়। মানববন্ধনের শেষে ৯নং ওয়ার্ড উন্নয়নের ফোরামের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে সড়কটি দিয়ে কোনধরনের লবণবাহী গাড়ি চলাচল করতে পারবে না বলে ঘোষণা এবং অন্যান্য উপরোক্ত দাবি পেশ করেন সাউথ এশিয়ান কলেজের প্রভাষক ও সাবেক বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নেজাম উদ্দিন।
উক্ত মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন–ছনুয়া ৯নং ওয়ার্ড উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক মাস্টার আব্দুর রশিদ ছানুবী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গফুর (ইউপি সদস্য), সদস্যদের মধ্যে আব্দুল আলিম মনির, আব্দুল আজিজ, খোরশেদ আলম, এলাকাবাসীর পক্ষে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এমরানুল হক রাশেদ, ফরিদ আহমদ, আব্দুল মালেক নুরী, আব্দুল হান্নান, আবু বকরসহ আরো অনেকে।
এই ব্যাপারে কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ (উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি) বলেন, বাঁশখালীর অসম্পূর্ণ রাস্তা সমুহের কাজ চলমান। কিছু কিছু কাজে ঠিকাদার অনুপস্থিত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখিত সড়কের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
