অপহরণকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাঁশখালীতে মানববন্ধন

মোহাম্মদ এরশাদ বাঁশখালী( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অটোরিকশা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আলি আহমদকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা অপহরণকারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।(৩০ জুন)সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় উপজেলার গুনাগরী চৌমুহনী চত্তরে বাঁশখালী অটোরিক্সা (সিএনজি)পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।জানা যায়,উপজেলার গুনাগরী ইউনিয়নের লিছু বাগান এলাকা থেকে আলি আহমদ নামক এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে রাতভর নির্মমভাবে নির্যাতন করেন অপহরণকারীরা।পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় গত ২৬ জুন সকাল ৭টার দিকে জঙ্গল গুনাগরী ডাকাতের পুল এলাকায় পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে গুনাগরীস্থ বাঁশখালী আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভুক্তভোগী পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ,অপহরণের পর আলি আহমদকে রাতভর চোখ বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।সেই ধারাবাহিকতায় বাঁশখালী অটোরিকশা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ মনছুর এর সভাপতিত্বে এক মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দীন,অর্থ সম্পাদক ওহিদুল আলম, ক্রীড়া সম্পাদক আবু ছালেক,দপ্তর সম্পাদক মনির আহমদ,সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দীন, সদস্য মিলন মল্লিক।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন সাব কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল কবির,সাবেক সহ-সভাপতি মামুন মিয়া, লাইনম্যান আবদুল গফুর সহ অত্র শ্রমিক ইউনিয়নের শতাধিক শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,এটি শুধু একজন শ্রমিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা নয়, এটি গোটা শ্রমিক সমাজের ওপর সন্ত্রাসের হুমকি। অপহরণকারীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো, আমরা বিচারের দাবিতে পিছু হটবো না।বক্তারা আরও বলেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ঘটনার বিচার হবে,ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রশাসনকে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।তারা বলেন, শুধু মানববন্ধন নয়, প্রয়োজনে গণঅনশন, বিক্ষোভ মিছিল ও হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মোহাম্মদ মনছুর বলেন,আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি,কিন্তু যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা বাধ্য হবো পরবর্তী কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে।মানববন্ধনে ব্যানার,ফেস্টুন, প্রতিবাদী স্লোগানে গুনাগরী চৌমুহনী চত্তর মুখর হয়ে ওঠে।উপস্থিত সকল শ্রমিক, এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা অপহরণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

আরও পড়ুন  এস আলমের চেয়ারম্যানের সঙ্গে খোরশেদ আলমের সাক্ষাৎ
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন