৫ জন শ্রমিক থাকলেই করতে হবে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন: শ্রম উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ার করুন

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ৫ জন শ্রমিক থাকলে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ট্রেড ইউনিয়নকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারবে না। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। সামাজিক ক্লাবগুলোও শ্রম আইনের আওতায় আসবে। শনিবার ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা -২০২৫’ উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাদের সকল যৌক্তিক দাবি ও চাহিদাসমূহ পূরণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শ্রমিকদের সকল যৌক্তিক দাবি মেনে নেয়া হবে।

শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, কৃষি, শিল্প, গার্মেন্টস ও রপ্তানিখাতে শ্রমিকদের পরিশ্রম দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
শ্রমিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ (এনডিসি, পিএসসি) বলেন, শ্রমিকরা দেশকে ভালোবাসে আমরা দেখেছি, স্বৈরাচার পতনের পর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাভার ও নারায়নগঞ্জের শ্রমিকরা কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সচল রেখেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে শ্রমিকরা ছিলো সহযোগিতাপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মবাণী ছিলো- বৈষম্যের বিরোধিতা। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের বৈষম্য নিরসনে সচেষ্ট। বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও দেশ প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের যে স্পিরিট সেটা বহাল থাকবে।
বিশেষ অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, শ্রমিকরাই এই দেশের মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের পরিশ্রমেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আপনারাই ডলার উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। দেশের অর্থনীতিকে আপনারাই সচল রেখেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রম আইনে শ্রমিকদের যে সকল অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নের নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি মালিকপক্ষকেও অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন ট্রেড ইউনিয়ন চাই, যা রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়, বরং শিল্পের কণ্ঠস্বর। ইউনিয়নগুলো যেন ন্যায্যতা ও শিল্পের স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করে।অনুষ্ঠানে ১৭ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া, জুলাই ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধি, সাভার উপজেলা প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী, সাভারের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকবৃন্দ প্রমুখ।

আরও পড়ুন  রংপুর মিঠাপুকুরে দুই অধ্যাপকের লড়াই
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন