কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগউঠেছে । ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশী নুরুল হুদার ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২) কিশোরীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় ভুক্তভোগীর অসহায় চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ছুটে এসে দরজা ভেঙে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা জড়ো হলে সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার রফিক আলম বিচার করার আশ্বাস দিয়ে আরিফকে তার জিম্মায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর বাবা বাদশাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার তিন মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে একজনকে পাশের বাড়ির ছেলে ধর্ষণ করেছে। প্রথমে ধর্ষককে আমরা হাতে-নাতে ধরলেও সমাজ সর্দার রফিক আলম তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো একটি ফাঁকা কাগজে আমাদের সই করানো হয়েছে। আমি আমার মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার পর বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসাইন শহিদ সাইফুল্লাহ বলেন, “ঘটনার খবর আমি মঙ্গলবার পাই। পরে পরিবারকে থানায় যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিই।”
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সমাজ পরিচালনা কমিটির সর্দার রফিক আলম ভিন্ন দাবি করে বলেন, “এটা দুই পক্ষের সম্মতিতে বৈঠক হয়েছিল। ভুক্তভোগীর পরিবার বৈঠকে আসেনি। আমি আরিফকে জিম্মায় নিইনি। কিশোরীর দাদা সিরাজুল ইসলাম নিজেরাই ঘটনার দিন রাতে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এধরনের অনেক ঘটনা আমরা অতীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেছি।”
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, “এ ঘটনায় লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।