logo
মিঠাপুকুরে শিক্ষার্থী ও দায়িত্বশীলদের নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা
সংবাদ প্রকাশিত:

রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলা আজ ( ৪সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কর্তৃক উপজেলা কার্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী দায়িত্বশীলদের নিয়ে নির্বাচনী মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল হালিম ,কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক,বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, আমির রংপুর জেলা শাখা, মাওলানা এনামুল হক, সেক্রেটারি রংপুর জেলা শাখা, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। মত বিনিময় সভাপতিত্ব করেন আসাদুজ্জামান শিমুল, আমির মিঠাপুকুর উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হতে হবে।বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী ৩০০ আসনেই প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে, যা অন্য কোন রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারেনি।
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তবে ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের মতো নির্বাচন চায় না জামায়াত। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে ভুল তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এই সরকার সকলের সাথে কথা বলেই সব সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু তিনি একটা দলের সাথে কথা বলেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার বলেছি এটা ঠিক হয়নি। এরপরেও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। তবে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু হলে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত আছে।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রথম পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের কথা বলেছেন। কিন্তু একটি পক্ষ মানুষের মাঝে এটা নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। তারা বলছেন এটা নাকি একটা ষড়যন্ত্র। এই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সকল ভোটার মূল্যায়িত হবে। পিআর পদ্ধতিতে ভোট হলে আর কখনো বাংলাদেশে হাসিনার মতো কেউ ক্ষমতায় থাকার কথা ভাবতেও পারবে না।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, অতীতের সরকারগুলো স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বিভাজন তৈরীর অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের মতের বিরুদ্ধে দেশ ও জাতির স্বার্থে কথা বললেই রাজাকার, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ আজ্ঞাহিত করার প্রবণতা দেখা গেছে। ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন আরেকদলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরাও আলেম-ওলামাদের রাজাকার-মৌলবাদী হিসেবে আজ্ঞাহিত করছে। আবার তারা দেশ ছাড়তেও স্লোগান দেয়। অথচ তাদের নেতারাই দেশ ছাড়া। কেউ দুর্নীতি করে,কেউ জনগণের সম্পদ লুট করে আবার কেউ মুছলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতাকর্মী আজ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর দোসর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জীবন ও রক্ত দিয়েছে। রাজাকার-মৌলবাদী হিসেবে যেই আলেমদের আজ্ঞাহিত করা হয়, হয়েছে তাদের কেউ কিন্তু এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। বরং প্রত্যেকেই দেশ ও জাতির স্বার্থে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রেখেছে। যাদের নিজেদেরে ভাষায় এতো এতো দেশপ্রেম তারাই কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ বিদেশে আত্মগোপনে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, কেউ বিদেশের মাটিতে বসে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে প্রোপ্রাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন  পাঁচ দফা দাবিতে বাঘাইছড়িতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

অন্যান্য বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে কেউ ভোট সেন্টার দখল করতে গেলে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দীপ্ত চিত্তে প্রতিহত করবে। জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে। ছাত্র-জনতার সঙ্গে একাকার হয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত আমরা মোকাবিলা করব।