২৪ এর জুলাই বিপ্লবের দেশে সর্বপ্রথম বড় একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) নির্বাচন জাতীয় ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপুর্ন নির্বাচন। দেশের ইতিহাসে সংকট সম্ভাবনা ও পরিবর্তনে ডাকসু নেতৃত্বের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপুর্ন। স্বাধিনতার পুর্বে ৬৯ এর গন আন্দোলন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মহান স্বাধিনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিনতার পর ৫৪ বছরে স্বাধিন বাংলাদেশের যতগুলো আন্দোলন ও পরিবর্তন সবসময় নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই ডাকসু নেতৃত্ব। তাইতো বলা হয়, – ডাকসু জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার পর প্রচার প্রচারনার শুরু থেকে ফলাফল ঘোষনা পর্যন্ত পুরো জাতীর গভীর মনযোগ ও দৃষ্ঠি ছিল, এই ‘ডাকসু’ নির্বাচনের প্রতি। ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটার পর থেকে দিন পেরিয়ে শেষ রাত অবধি দেশের মানুষের নির্ঘুম রাত কেটেছে কঠিন বিশ্বাষের পাশাপাশি হাল্কা উৎকন্ঠার সাথে টিভির পর্দায় অথবা এনড্রয়েড মোবাইলের স্ক্রিনে। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এবং স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যেও এত কৌতুহল স্বাধিনতার পর আর কখনো কেউ দেখেছে বলে মনে হয়না। জেন-জি প্রজন্মের পাল্স বুঝতে পেরে ঢাবি প্রশাসনের ছোটখাট কিছু ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ছাড়া নিরেট আন্তরিকতা, দায়িত্বানুভূতি ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের সমন্বয়ে জাতীর প্রত্যাশিত একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও সুশৃংখল একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য পুরো জাতীর বিশ্বাষকে আরো মজবুত করে দিল। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো জাতী কড়া বার্তা পেয়ে গেল, যেকোন ধরনের ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন ‘জেন-জি’ প্রজন্মের যুগ। সুন্দর স্বপ্ন ও মেধা চর্চ্চার যুগে পদার্পন করেছে বাংলাদেশ।ডাকসু নির্বাচনের শুরু থেকে জুলাই বিপ্লবের স্প্রিট সহ সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা নীরবে গভীর অনুসন্ধিৎসু মনে অবজার্ভ করেছে প্রার্থীদের দলীয় পরিচয় ও আদর্শের বাইরে তাদের চিন্তা-চেতনা, মেধা-মনন, আচার- আচরন, শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের গুনাবলী। তারা বিবেচনায় রেখেছে ২৪ এর জুলাইয়ে এত প্রান ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের মোটিভকে কারা সত্যিকারভাবে ধারন করতে পারবে, কারা সেকেলে চিন্তায় ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বলয়ে আঁটকে থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়ে জুলাই বিপ্লবের অর্জনকে ম্লান করে দেবে,- এসব বিবেচনায় ঢাবি’র সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা সাইলেন্ট ডিসিশন নিয়ে ডাকসু নির্বাচনে বলতে গেলে এক প্রকার ়আরেকটি নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে সমগ্র জাতীতে কড়া বার্তা দিল, এখন সত্যিকারের নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়। রাজনীতি আর নির্বাচনে ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক পুরানো চিন্তা কালচারের বলয় থেকে যারা নিজেদের বের করতে পারবেনা, নতুন প্রজন্মের পাল্স বুঝার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেনা নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের আকাশ কিন্তু ঘন মেঘে ঢেকে আছে। নিয়তির আমোঘ এ সত্য যারা বুঝতে পারবে তারা ফিরে ়আসবে সাধারন মানুষের হৃদয়ে, আর যারা বুঝার চেষ্টা করবেনা, তারা নির্দয়ভাবে নিক্ষিপ্ত হবে ইতিহাসের ়আস্তাকুড়ে।
১০ সেপ্টেম্বর ভোর ৩ টায় যখন এ প্রতিবেদর লিখছি তখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি হলের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ফলাফলে ভিপি পদে ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত সাধারন শিক্ষার্থী ঐক্যজোট প্যানেলের আবু সাদিক কায়েম এবং জিএস পদে এস এম ফরহাদ বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিট থেকে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়। ১৬টি হলের মোট ফলাফলে ভিপি পদে সাদিক কায়েম ১২,৬৭৪ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবিদুল ইসলাম খান ৫,২২১ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, জিএস পদে ফরহাদ পেয়েছেন ৯,৭৪১ ভোট, যেখানে হামীম পেয়েছেন ৪,৮৭৫ ভোট।
ঘোষণা করা ১৬টি হল হলো: সুফিয়া কামাল, ফজলুল হক হল, শহিদুল্লাহ হল, শামসুন নাহার হল, জগন্নাথ হল, জহুরুল হক হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, স্যার এফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, জসিমউদ্দিন হল, শেখ মুজিব হল, মাস্টারদা সূর্যসেন এবং জিয়া হল।
জগন্নাথ হল: এ হলে আবিদুল ইসলাম খান ১২৭৬ ভোট পেয়ে ভিপি পদে এগিয়ে ছিলেন, অন্যদিকে সাদিক কায়েম পান মাত্র ১০ ভোট। জিএস পদে মেঘমল্লার বসু ১১৭০ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন।
রোকেয়া হল: এই হলে সাদিক কায়েম ১৪৭২ ভোট এবং আবিদুল ৫৭৫ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে ফরহাদ ১১২০ ভোট পান।
অমর একুশে হল: সাদিক কায়েম ৬৪৪, আবিদুল ইসলাম ১৪১ ভোট পেয়েছেন।
সুফিয়া কামাল হল: সাদিক কায়েম ১২৭০, আবিদুল ইসলাম ৪২৩ ভোট পেয়েছেন।
শহিদুল্লাহ হল: সাদিক কায়েম ৯৬৬, আবিদুল ইসলাম ১৯৯ ভোট পেয়েছেন।
ফজলুল হক হল: সাদিক কায়েম ৮৪১, আবিদুল ইসলাম ১৮১ ভোট পেয়েছেন।
এই আংশিক ফলাফল থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রধান পদগুলোতে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন।
ডাকসু নির্বাচন: ১৬ হলের ফলাফলে সাদিক ১২৬৭৪ ভোট, আবিদ ৫২২১
Posted By mmohi On In জাতীয়, রাজনীতি | Comments Disabled