নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, ডাক্তার সংকট ও যন্ত্রপাতি অকেজো থাকার কারণে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও তারা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম
সরকারি সরবরাহকৃত বিনামূল্যের ওষুধ রোগীদের হাতে না পৌঁছে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এতে গরিব ও নিম্ন আয়ের রোগীরা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চিকিৎসক সংকট ও উপস্থিতি সমস্যা
হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক ডাক্তার নেই। যারা আছেন, তাঁদেরও অনেকেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। দুপুরের পর ডাক্তারদের কক্ষে রোগীরা তালা ঝুলতে দেখেন প্রায়ই।
স্থানীয় কৃষক শহিদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“হাসপাতালে আসি গরিব মানুষ বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু ডাক্তার পাই না, আবার বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়।”
যন্ত্রপাতি অকেজো
এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ল্যাব টেস্টের মতো যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যেখানে চিকিৎসা খরচ কয়েকগুণ বেশি।
ডাক্তার দেওয়ার সরকারি নিয়মঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকতে হবে—
১ জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO)
১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO)
৫–৭ জন মেডিকেল অফিসার
প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (গাইনী, শিশু, মেডিসিন, সার্জারি ইত্যাদি)
নার্স ও টেকনোলজিস্ট
তবে বাস্তবে বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পদ শূন্য রয়েছে, আর যারা আছেন তাঁদের অনেকে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—“জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতির সমস্যা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ধাপে ধাপে সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
সাধারণ মানুষের দাবি
স্থানীয়রা বলছেন, তদন্ত করে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে গরিব মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্থহীন হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।