কক্সবাজারের পেকুয়ায় জায়গা ক্রয়ের আড়াই বছর পর নির্মিত বহুতল ভবনের ওপর ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবার ২০সেপ্টম্বর (শনিবার) সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।
অভিযোগ রয়েছে—পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সরকারিঘোনা এলাকার মৃত আবদুল হকের ছেলে আহমদ নুর ও তার মা বুলবুল আক্তার জায়গাটি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ (বন্ধক) রাখা অবস্থায় উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ঝুমপাড়া বটতলি এলাকার প্রবাসী মোঃ আব্দুর রহমানের কাছে বিক্রি করেন। এ নিয়ে জটিলতায় পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, ২০২৩-২৪ সালে আহমদ নুর ও বুলবুল আক্তারের কাছ থেকে ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন প্রবাসী আব্দুর রহমান। ক্রয়ের পর বিক্রেতারা পূর্ণ টাকা বুঝে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জমি হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে জমিটি নামজারী করে ভুক্তভোগী পরিবার সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করে। ইতোমধ্যে ভবনের ৪র্থ তলার কাজ শেষ হয়।কিন্তু চলতি বছরের কয়েক মাস আগে হঠাৎ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পেকুয়া শাখার পক্ষ থেকে জায়গার উপর একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, আহমদ নুরের বিরুদ্ধে তাদের ৪০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে এবং জায়গাটি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ অবস্থায় রয়েছে।ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বিক্রেতা আহমদ নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যাংকের ঋণ দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ শোধ না হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে গতকাল ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুর রহমানের পক্ষে তার শ্বশুর শীলখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাফর আহমদ ও পিতা মোঃ হোছন সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, “মর্টগেজ থাকা সত্ত্বেও আহমদ নুর ও তার মা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জমি বিক্রি করেছেন। রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংকেরও দায়িত্বহীনতা রয়েছে। আড়াই বছর পর হঠাৎ এভাবে ব্যাংকের সাইনবোর্ড টাঙানো আমাদের প্রতি অন্যায্য হয়রানি ছাড়া আর কিছু নয়।”সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জায়গা বিক্রি ও ব্যাংকের গাফিলতির কারণে পরিবারটি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অবিলম্বে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
