উৎসবের আবহে ডিমলা: দুর্গাপূজা ঘিরে মোবাইল টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার

মোঃ মকবুলার রহমান, নীলফামারীঃ

শেয়ার করুন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বইছে উৎসবের আবহ। উপজেলার সবকটি পূজামণ্ডপে রঙিন আলোকসজ্জা, ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতা আর পূজার সাজসজ্জায় তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ উৎসব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিমলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গোৎসব-সংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী মঞ্জুরুল হক খান।
সভায় ইউএনও ইমরানুজ্জামান বলেন, “দুর্গাপূজা এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সকলের অংশগ্রহণে সার্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ডিমলায় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রেখে আমরা চাই, সবাই মিলে আনন্দঘন পরিবেশে এই উৎসব উদযাপন করুক।” তিনি জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সভায় ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলে এলাহী জানান, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তিন ধাপে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে—পূজার আগের প্রস্তুতি, পূজার সময়কাল এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন। এ বছর ৭০টি মণ্ডপে বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬ জন আনসার এবং ৩ জন গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি মোবাইল টিম, কুইক রেসপন্স ইউনিট, ফিক্সড টিম এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উস্কানিমূলক তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে চলছে কঠোর মনিটরিং।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা ওয়াসিম ইসলাম, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবু জ্যোতি রঞ্জন রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় আলোচনার মাধ্যমে মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জন এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়কালীন বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওসি ফজলে এলাহী বলেন, “বর্তমানে ডিমলায় কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই। আমরা চাই, সবাই সম্মিলিতভাবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করুক।” তিনি পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যে কোনো প্রয়োজনে থানা, উপজেলা প্রশাসন বা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানান।
ডিমলা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের এক ভিন্নমাত্রা। ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার ছায়ায় এবারও দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে এক আনন্দময় পরিবেশে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম এডিটর’স ক্লাবের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন, আজাদীর এম. এ. মালেক প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন