পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় সরগরম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

নুরুল আমিন হেলালী,কক্সবাজারঃ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। গত কয়েকদিন যাবৎ সৈকতসহ কয়েকটি পর্যটন স্পট ঘুরে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে।
দুরের ও স্থানীয় ভ্রামণপিপাসু পর্যটকের কেউ কেউ সাগরের ঢেউয়ে শরীর ভিজিয়ে টিউব নিয়ে সাঁতার কেটে উপভোগ করছেন স্বচ্ছ সাগরের জলরাশি। আবার অনেকেই জেড স্কিটে চড়ে ঘুরে আসছেন। ঢেউয়ের তালে তালে খেলা করছে সাগরের নীল জলরাশীর সাথে।
সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোরাফেরা, কিটকিটে বসে সাগরের শীতলতা উপভোগেও ব্যস্ত ছিলেন অনেকে।গতকাল বিশ্ব পর্যটন উৎসব ঘিরে কক্সবাজার সৈকতে ছিল সব বয়সী মানুষের আনন্দ-উল্লাস।
ঢাকা থেকে আগত অধ্যাপক মারুফ বলেন, ‌সারা বছরই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকি তাই পুজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে।
সমুদ্রপারে পরিবারকে  নিয়ে জলকেলিতে মেতে ছিলেন নড়াইল থেকে আগত শিক্ষার্থী মিথিলা বলেন, কক্সবাজার এসে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মন একেবারে জুড়িয়ে গেছে, তাই প্রতিবছর অন্তত একবার হলেও এখন আসার চেষ্টা করব।

সাগরের গর্জন শুনে আর সাগরের নীল জলরাশিতে পা ভেজাতে পেরে উচ্ছ্বসিত সব বয়সী নারী-পুরুষ।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস ব্যবসায়ী জিয়াউল আকাশ বলেন,গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে তারকা মানের হোটেলগুলো প্রায় বুকিং রয়েছে। তবে কিছু পর্যটকের অভিযোগ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে হোটেল ভাড়া বেশি নিচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট অপরুপ সৌন্দর্য্যের প্রাকৃতিক লীলাভুমি কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সমুদ্রের তালে তালে গা ভাসিয়ে সমুদ্র স্নান ও সাগরের সৌন্দর্য দর্শন।
সৈকত ঘুরে দেখা যায়, আগত পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্র স্নান নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতের তিনটি জনপ্রিয় পয়েন্ট সুগন্ধা, কলাতলীও লাবণী সী সেইফ লাইফ গার্ডের কিছু সদস্য কাজ করছে। এছাড়া সমুদ্র স্নানে নেমে যাতে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য আগত পর্যটকদের সচেতন করতে হ্যান্ডমাইক ও বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করছে লাইফ গার্ডের সদস্যরা।
অপরদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মহমুদ বলেন,কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পর্যটন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। হোটেল মোটেল জোন ঘুরে রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের দাম নিয়ে পর্যটকদের কোন অভিযোগ না থাকলেও হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজের ভাড়া নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। একটু পর্যটক বাড়লেই কে কত বেশি রুম ভাড়া আদায় করতে পারে তার একটা প্রতিযোগিতা হরহামেশাই বিদ্যমান বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েক পর্যটক। অপরদিকে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসন। সামনে পর্যটন মৌসুমকে ঘিরে হোটেল-মোটেল জোনে সংস্কারের কাজও চোখে পড়েছে। অপরদিকে আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবসায়ীরা পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি হোটেল রেস্তোরাঁগুলো নানা রঙে নানা ঢঙে পর্যটক আকর্ষণের জন্যে ঢেলে সাজাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুন  ‎রাজশাহী দূর্গাপুর গোড়খাই গ্রামে বিষপানে মুদি দোকানীর আত্বহত্যা
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন