মিঠাপুকুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শঠিবাড়ী বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিনে সড়কে সুপারির হাট বসে। যে কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পথচারী,ছাত্র-ছাত্রী, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন যানে চলাচলকারী যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর )রংপুরের মিঠাপুকুরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের শঠিবাড়ী এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে সুপারির হাট বসার কারণে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।ঢাকা- রংপুর মহাসড়কের বাজার অংশে সড়কের উপর রবিবার বৃহস্পতিবার বসে সাপ্তাহিক হাট। এই দুদিনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।হাট সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়। এখানে এই দুই দিনে বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।শঠিবাডি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়,শঠিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল, সহ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।এছাড়াও সরকারি গুদামঘর, মসজিদ, ব্যাংক, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধুমাত্র সুপারির হাট নয়, মাছের বাজার, বাঁশের তৈরি পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়,ফুটপাতের কিছু দোকান সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দোকান থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়। শঠিবাড়িতে দুইটি বাস স্টপ আছে একটি উত্তর বাস স্ট্যান্ড অপরটি দক্ষিণ বাস স্ট্যান্ড।যেখানে বাস থেকে যাত্রী উঠানামা করে, ঠিক সেই স্থানগুলোতেই এই হাটগুলো বসে। বিশেষ করে সুপারির হাট যেখানে বসে, সেটি মূলত ঢাকা রংপুর মহাসড়ক।
শঠিবাড়িতে রাস্তায় হাট-বাজার বসা নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। অনেক সময় হাট ইজারাদাররা নিজেদের স্বার্থে মহাসড়কের কাছাকাছি হাট বসান,যা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় হাট সম্প্রসারিত হলে এই সমস্যা আরও বাড়ে।ইজারাদাররা নিয়ম ভেঙে মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখার মধ্যে হাট বসান,যা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে,যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু হলে হাট সম্প্রসারিত হয়,ফলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
হাট ইজারাদারের সদস্য নুরুল ইসলাম লালন মোবাইল ফোনে জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকার কারণে এ হাট বসে। আমরা নির্দিষ্ট জায়গা খুজতেছি কিন্তু পাচ্ছিনা। এ বিষয়ে প্রশাসন ১ কিলো মিটারের বাইরে এ ধরনের হাট বসাতে পারমিশন নেই বলে জানিয়েছে।আমরা আগামী হাট থেকে মহাসড়কে না বসিয়ে অন্য কোথাও বসার জন্য বলে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলতে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে কল দিও তাকে পাওয়া যায়নি।
বড়দরগাঁ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোবাইল ফোনে জানান,আমি বর্তমানে কক্সবাজার আছি। আমি আমার টিমদের দ্রুত যানজট নিরশনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় ও হাটের ইজারাদার সূত্র জানায়, মহাসড়কের দুই পাশে শঠিবাড়ী হাটের আয়তন প্রায় ১৪ বর্গ একর। এখানে আনুমানিক দোকান রয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার।
