জনবল ও নানান অব্যবস্থাপনায় ভরপুর

চিকিৎসক সংকটে জর্জরিত তাড়াইল ৫০ শয্যা হাসপাতাল  

২ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা

আমিনুল ইসলাম রিপন কিশোরগঞ্জ তাড়াইল:

শেয়ার করুন

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক ও জনবল সঙ্কটের  কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা  । উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা ঠিক মতো পাচ্ছে না স্বাস্থ্য সেবা। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘদিন ধরে জনবল শূন্যতার কারণে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঢিলেঢালা ভাবে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট চরমে পৌছেছে। উপজেলার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ২৮জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ২জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছে। মাত্র দুইজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে কুড়িয়ে কুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এছাড়া কনসালটেন্টের মধ্যে একজনও নেই। অ্যানেসতেসিয়া (অজ্ঞান কারক) সার্জারী, কার্ডিও, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান ও গলা জুনিয়র কনসালটেন্ট একজনও নেই। গুরুত্বর রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে চিকিৎসক না থাকার কারণে চলে যেতে হয় জেলা সদরে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর সহ অন্যত্রে প্রেরণ করা হচ্ছে রোগীদের এবং তাদের ব্যায়বারও বাড়ছে। সূত্রে জানা যায়, ল্যাব ৩টি পদ শূন্য, রেডিওলজি ১জন পদ শূন্য, এক্সরে মেশিন ১২ বছর যাবৎ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। টেকনিশিয়ানের অভাবে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ডাক্তারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে বলে জানাগেছে।গাইনি ডাক্তার সংযুক্তিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এ কর্মরত আছে। নাইটগার্ড ৩ জনের মধ্যে ১জন, ডেন্টাল সার্জন একজন আছে। অফিস সহায়ক শূন্য পদ ২টি, বাবুর্চি ৩ জনের মধ্যে ১ জন আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫ জনের মধ্যে ১জন আছে, ওয়ার্ড বয় ৩ জন আছে। সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শত শত রোগীদের জন্য মাত্র ২ জন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রায় সময় দুইজন ডাক্তারের মধ্যে বিভিন্ন কারণে একজন অনুপস্থিত থাকতে হয়। হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও প্যাথলজিতে গিয়ে ভিজিট দিয়ে মেডিকেল অফিসার দেখাতে হচ্ছে। এছাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ বিভিন্ন প্রকার ওষুধ সংকট রয়েছে।

আরও পড়ুন  সিএমপি পুলিশের উদ্যেগে ঐতিহাসিক ৭মার্চ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন 

এ বিষয়ে ৩ ডিসেম্বর বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা’র সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিস সহকারী জানায় তিনি অসুস্থ তাই ছুটিতে আছেন।অন্য ডাক্তার ও হাসপাতাল এর কর্তব্যতরা জানায় সীমা বদ্ধতার মাঝেও আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্ঠা করে যাচ্ছি। ওষুধ সংকট সম্পর্কে তারা জানায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে তবে ওষুধ সংকট কয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন