বাঁশখালীর শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হত্যা নাকি আত্মহত্যা প্রশ্নবিদ্ধ

মোঃ সরওয়ার আলম চৌধুরী, বাঁশখালীঃ

শেয়ার করুন
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ী ইউনিয়নে বিবাহের মাত্র ছয় মাসের মাথায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ কি হত্যা নাকি আত্মহত্য, এ নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনা। পুলিশ বলেছে, ময়না তদন্ত শেষে জানা যাবে নিহতের কারন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর আনুমানিক সকাল ৫টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়াকাটা এলাকার মানিক মিয়ার বসতঘর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম হুরাইন জন্নাত (১৮)। তিনি পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচারী পাহাড় এলাকার সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুরাইন জন্নাতের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ও প্যানেল চেয়ারম্যান তানজিনা তানজিমকে জানানো হয়। পরে তারা বাঁশখালী থানা পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে নিহতের বাবার বাড়িতেও সংবাদ পাঠানো হয়।
জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে পুঁইছড়ী ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মানিক মিয়ার সঙ্গে হুরাইন জন্নাতের বিয়ে হয়। এলাকাবাসীর ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সময় ভিকটিমের স্বামী মানিক মিয়া বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তিনি ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পর থেকে স্বামীর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে এসে দেখি গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে জানানো হয়।”
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) শুদাংশু শেখর হাওলাদার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আরও পড়ুন  ইপিজেড থানা কমিউনিটি পুলিশিং উদ্যোগে আইন শৃঙ্খলা ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভা
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন