কক্সবাজারে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা

“রাজার ছেলে রাজা হোক—এই রাজনীতির আমরা বিরোধী”:শফিকুর

নুর মুহাম্মদ কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হবে—এই বংশানুক্রমিক ও দুর্নীতিবাজ রাজনীতির আমরা বিরোধী। যার যোগ্যতা আছে, সেই হবে দেশের সেবক। আমরা চাই, একজন রিকশাচালক শ্রমিক ভাইয়ের মেধাবী সন্তানও যেন আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা দলের নয়, আঠারো কোটি মানুষের বিজয় চাই। অতীতের সবকিছু হয়তো বদলানো সম্ভব নয়, তবে কিছু অপরাধ কখনোই ছাড় দেওয়া যায় না। আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার হতেই হবে। তবে কারো ওপর অবিচার করা হবে না—ইনশাআল্লাহ। অনুতপ্ত হয়ে যারা নিজেদের সংশোধন করবে, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোলচত্বর মাঠ) জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখার আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় জামায়াতের লক্ষাধিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন, মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন এবং শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। পঁচা-ঘুণে ধরা ৫৪ বছরের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ পাবে। সে বাংলাদেশে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। যে জাতি মায়েদের সম্মান করে, আল্লাহ সেই জাতিকে সম্মানিত করেন।
বিএনপির বেকার ভাতা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুবসমাজ ভাতা চায়নি—তারা কাজ চেয়েছে। আমরা যুবকদের হাতে ভিক্ষার মতো বেকার ভাতা তুলে দিয়ে অপমান করবো না। বরং দক্ষ করে গড়ে তুলে কাজ দেবো। তারপর তারা বলবে—আমিই বাংলাদেশ।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লেজ ধরে টানাটানি নয়, মাথার দুই পাশের কান ধরে টান দিতে হবে। তাহলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অসৎ রাজনীতি ও ব্যাংক ডাকাতির কারণে কক্সবাজার আজও হংকং বা সিঙ্গাপুর হতে পারেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে এবং তা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। কোনো মামা-খালু বা ক্ষমতাবানদের প্রভাব সেখানে কাজ করবে না।
তিনি কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মানে সার্টিফিকেট তৈরির কারখানা নয়। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা মানুষ ও দেশ গড়ার কারিগর তৈরি করবে।
জনসভায় কক্সবাজার-০৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনপিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ ক্বারী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ, কক্সবাজার।

আরও পড়ুন  পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক শিশুর মৃত্যু
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন