ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোন মোবাইল নিয়ে কেউ যেতে পারবেনা এবং মোবাইল ব্যবহার করা যাবেনা নির্দেশনা আসার পর দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি হয়। এমন কি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও ইসি’র অযৌক্তিক এ নির্দেশনার ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এ নির্দেশনা সংশোধনে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে রাখে, অন্যতায় নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাওয়ের হুমকিও প্রদান করে। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরাও এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিষয়টি মুহুর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইর্যাল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের বিষয়ে পূর্বের নির্দেশনা সংশোধন করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটার, প্রার্থী, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ছবি তুলতেও পারবেন। তবে গোপন কক্ষের ভেতরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ভোটার, প্রার্থী, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন; তবে গোপন কক্ষের ছবি তোলা যাবে না। শুধু পোলিং এজেন্ট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।
ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও জর্জিয়া থেকে ৬০ জন সাংবাদিক পর্যবেক্ষক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়চে ভেলে ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস থেকেও সাংবাদিকরা এসেছেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ২২৩ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন এবং আইআরআই থেকে ১২ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আজ আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের প্রথম উদ্বেগ ছিল মোবাইল ফোন নিয়ে। এখানে কিছু মিসকমিউনিকেশন হয়েছিল। লিখিতভাবে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝানো যায়নি। মোবাইল ফোন ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে—তা আমরা এখন পরিমার্জন করছি।”
ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, বরগুনার ব্যালটে কিছু সমস্যা ছিল এবং ফরিদপুর-১ আসনের ব্যালটও সংশোধন করতে হয়েছে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে চলছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণায় বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রেজাল্ট দেরি হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ব্যালট গণনার সময়কে দেরি বলা যায় না।”
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বেশি সময় আর বাকি নেই। আগামীকাল সকাল থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন প্রচার-প্রচারণা না হয়, সে বিষয়ে ডিজিটাল মনিটরিং করা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। বড় কোনো নেতিবাচক খবর আসেনি। তবে দুটি প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”
তিনি আরও বলেন, “আচরণবিধি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সুরাহা করবে নির্বাচন কমিশন। মিছিল-মিটিংয়ে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য নির্বাচনের অংশ। এখন পর্যন্ত এসব বক্তব্য শালীনতার মধ্যেই রয়েছে।”


