logo
অর্থনীতির খুব খারাপ অবস্থায় এ দায়িত্ব বড় চ্যালেঞ্জ
সংবাদ প্রকাশিত:

পুঁজিবাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকিং সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বহু প্রতিষ্ঠান কার্যত ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করাই এখন বড় দায়িত্ব।

নতুন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া চট্টগ্রামের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বিনিয়োগ নেই, দারিদ্র্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান কমে গেছে এবং দ্রব্যমূল্যের চাপ রয়েছে। সব মিলিয়ে ট্রেড-জিডিপি রেশিও খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্যেই আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। মানুষের প্রত্যাশা অনেক, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, পুঁজিবাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাংকিং সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বহু প্রতিষ্ঠান কার্যত ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করাই এখন বড় দায়িত্ব। সেগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে এনে সঠিক পথে পরিচালিত করাই আমাদের কাজ।
তিনি বলেন, আশা করি ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধানের পথে যেতে পারব। মানুষের প্রত্যাশার অন্তত একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের চেষ্টা থাকবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমীর খসরু আরও বলেন, বহুদিন পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হয়েছে। এই সংসদ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং জবাবদিহির মধ্যে থাকবে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার জড়িত। তাই আজ আনন্দের দিন, আমরা আবার গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা বহু বছর সংগ্রাম করেছি। এখন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছি। মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, চলাফেরা করতে পারবে এবং অধিকার ভোগ করতে পারবে। জনগণ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, তার সম্মান রক্ষা করতেই হবে।
এদিকে, নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে আসায় আশার আলো দেখছেন ‘প্রায় পথে বসা’ পুঁজিবাজারের লাখো বিনিয়োগকারী। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে পাওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা উচ্ছ্বসিত। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি পুঁজিবাজারের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তাঁর হাত ধরে ধসে পড়া পুঁজিবাজার নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমকালীন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় আমীর খসরু জাতীয় রাজনীতি, অর্থনৈতিক নীতি ও বাণিজ্যিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে ব্যবসাবান্ধব নীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর সুস্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া তৎকালীন চট্টগ্রাম-৮ আসনে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে রপ্তানি বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
চট্টগ্রামের বনেদী পরিবারে জন্ম নেওয়া আমীর খসরু ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুঁজিবাজার—উভয় ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো সচল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে গতি আনতে তাঁর ভূমিকা ইতিবাচক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক নীতির প্রতি বিশেষ আগ্রহ—সব মিলিয়ে তিনি দেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

আরও পড়ুন  মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনার রায় আজ