শিশু নিরাপত্তা আইন উপেক্ষার অভিযোগ;

আসামির পলায়ন: শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের কারাগারে—উখিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড়

শিশুকে কারাগারে পাঠানো নিয়ে মানবাধিকার প্রশ্ন

নূর মোহাম্মদ, সহ-বার্তা সম্পাদক

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক আসামির পলায়নকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার এবং একটি শিশুকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন প্রয়োগের নামে শিশু নিরাপত্তা আইন ও মানবিকতার মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ এক অভিযানে বাড়ি ঘেরাও করে এক আসামিকে আটক করলেও তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে তার পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ, দুই নারী এবং প্রায় ৮ বছর বয়সী একটি শিশু। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দিক হচ্ছে—শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো। সচেতন মহল বলছে, কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ ছাড়া একটি শিশুকে কারাবন্দি পরিবেশে নেওয়া তার মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে শিশুদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার অংশ। এ সনদ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে এমন পরিবেশে নেওয়া যাবে না যা তার বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একইভাবে দেশের শিশু আইনেও শিশুকে গ্রেফতার বা আটক করা সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো শিশুকে সরাসরি অপরাধে জড়িত না থাকলে তাকে আটক বা কারাগারে পাঠানো আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ—যেমন আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় দেওয়া বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখা—অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও মানবিক পদক্ষেপ হতে পারত।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, একজন পলাতক আসামির দায় তার পরিবারের ওপর চাপানো যেমন অযৌক্তিক, তেমনি একটি নিরপরাধ শিশুকে কারাগারে পাঠানো চরম অমানবিক।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে শিশু নিরাপত্তা আইন, মানবাধিকার এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা জনমনে আস্থা সংকট তৈরি করবে এবং আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন  রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রধান সরঞ্জাম কার্যালয় চোরের আখড়া!
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন