পবিত্র ঈদুল আযহার পবিত্র ও আনন্দঘন এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।
ঈদুল আযহা ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও মানবতার এক মহান শিক্ষা। হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর অসীম আত্মত্যাগের স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকেও উৎসর্গ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত ঈমান, আনুগত্য ও মানবিকতার সৌন্দর্য।
একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য কেবল পশু কোরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমাদের অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা, অন্যায় ও বৈষম্যকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়েই কোরবানির শিক্ষা পরিপূর্ণতা লাভ করে।
আজও সমাজের বহু মানুষ মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাবে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঈদের আনন্দ তখনই সত্যিকার অর্থে পূর্ণতা পাবে, যখন সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের মুখেও হাসি ফুটবে। তাই আসুন, আমরা সবাই মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসি এবং একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হই— যেখানে প্রতিটি মানুষ মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অধিকার ভোগ করবে।
একই সঙ্গে কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আসুন, পবিত্র ঈদুল আযহার মহান শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, সহমর্মিতা, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা হয়ে উঠুক।
সবাইকে আবারও জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আসুফ চট্টগ্রাম বিভাগ


