পেকুয়ায় জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী: তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান

পেকুয়া উপজেলা জমায়াতের ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠান

নূর মোহাম্মদ, সহ-বার্তা সম্পাদক

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেকুয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০টায় পেকুয়া বাজারস্থ ঋণদান সমিতি ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব বিকাশ, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি ডা. নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর ও কক্সবাজার-১ সংসদীয় আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ বলেন, যেখানে মানবতার সমস্যা রয়েছে, সেখানে জামায়াতের উপস্থিতি অতীতেও ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, জনগণের সেবার মাধ্যমে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনে সংগঠনের অবস্থান ও ভূমিকা মূল্যায়ন করে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তৃণমূল থেকেই নেতৃত্বের শিকড় তৈরি করতে পারলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা কোনো দুনিয়াবি লাভ-লালসার জন্য এ সংগঠনে আসেননি; দ্বীনের বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথি আব্দুল্লাহ আল ফারুক দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণরায়ের বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে এবং গণরায়কে উপেক্ষা করার পরিণতি শুভ হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মতামত ও চাহিদার মূল্যায়ন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আবুল কালাম আযাদ, জেলা জামায়াতের দাওয়াহ বিভাগের সদস্য রফিক বিন ছিদ্দিক, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সভাপতি ড. আ ন ম মাছরুর হোসেন, উপজেলা জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি ও বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম জিহাদী, সহকারী সেক্রেটারি ও পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জু, দিদারুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মগনামা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা, বাঁশখালী পুঁইছড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন এবং চট্টগ্রাম জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। শেষে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  জেলেদের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অবিলম্বে নাফ নদী খুলে দিন"
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন