বিশ্ব নাট্যদিবস ২০২৬ সম্মাননা অর্জনে শিশির দত্তকে এডাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেয়ার করুন

বিশ্ব নাট্যদিবস ২০২৬ উপলক্ষে নগরীর প্রত্যাশী প্রধান কার্যালয়ে “বিশ্ব নাট্যদিবস ২০২৬ সম্মাননা” অর্জন করায় দেশের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, সংগঠক, কবি, সাংবাদিক, নাট্যকার ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা)-এর নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্তকে সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানিয়েছে এডাব চট্টগ্রাম জেলা শাখা।

এডাব চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল যাত্রার সঞ্চালনা ও চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী পরিষদের ভাইস-চেয়ারপারসন ড. মো. আরিফুর রহমান, সদস্য সৈয়দা শামীমা সুলতানা ও কাজী মো. আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব এ কে এম জসীম উদ্দীন, কার্যনির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু, এডাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি রেজিয়া বেগম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এডাব কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ভাইস চেয়ারপারসন ড. মোঃ আরিফুর রহমান ও এডাব চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মনোয়ারা বেগম শিশির দত্তের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
এ সময় তাঁর সম্মানে পাঠ করা শুভেচ্ছা বার্তায় চট্টগ্রাম জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য স্বপ্না তালুকদার বলেন: “কিছু মহান মানুষ আছেন। যাঁরা কাজ করেন খুব নিরবে, নিভৃতে নিঃস্বার্থভাবে। সমাজের কিছু সুবিধাবাদী মানুষের মত তাঁর কর্পোরেট ভাবনা নয়। মানুষের জন্য কাজ করাই একমাত্র ব্রত। বলতে গেলে একদমই প্রচার বিমূখ। দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতির পুরোহিত বলতে পারি। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত, তিনি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের উন্নয়নে প্রায়োগিক থিয়েটারসহ নাটকের মঞ্চের একজন গর্বিত কর্মী। এইবারে বিশ্ব নাট্যদিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের যৌথ আয়োজনে “বিশ্ব নাট্যদিবস ২০২৬ সম্মাননা” অর্জন করেছেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশের বিশিষ্ট সংগঠক, নাট্যব্যক্তিত্ব, কবি, সাংবাদিক ও নাট্যকার শিশির দত্ত। সরকারের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের টেকসই উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে থিয়েটার নানাবিধ প্রায়োগিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেন। স্বপ্ন দেখেন শিশু কিশোরদের জন্য “Art Education for All” বিষয়টি একদিন শিক্ষা কারিকুলামে যুক্ত হবে। সৃজনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন হবে। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির সংস্কৃতিকর্মীদের কথা বিবেচনা করলে ঢাকা কেন্দ্রিক চিন্তাটা সবার প্রথমে আসবে। যেটা আবহমানকাল ধরে আমার মতে একটা বৈষম্য! শুধুমাত্র প্রচার ও মিডিয়া কেন্দ্রিক যারা কাজ করেন। কিন্তু, আমরা ভুলে যাই, ঢাকা মানে সম্পূর্ণ বাংলাদেশ নয়। ঢাকার বাইরে সংস্কৃতির চর্চা হয় ব্যাপক হারে। আর ঢাকার বাইরে যিনি নিরবে দেশের জন্য কাজ করছেন। উন্নয়ন ও মানুষের পরিবর্তন সবসময় দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেন। তিনি শুধু কাজই করেন, স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান। দাদার এই গৌরবময় অর্জনে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। জয় হোক থিয়েটারের। জয় হোক মানবতার।”
অনুষ্ঠানে এডাব নেতৃবৃন্দরা বলেন: “শিশির দত্ত কেবল একজন নাট্যব্যক্তিত্ব নন; তিনি সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক সমাজ বিনির্মাণের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি থিয়েটার, সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক পরিবর্তন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।

আরও পড়ুন  ২৮ অক্টোবর পল্টন হত্যাকান্ড স্মরনে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন