অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে সেবা খাতে ১২,৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন 

ঘুস-দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট, বিআরটিএ টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ার করুন

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন সেবাখাতে দুর্নীতি ও ঘুস লেনদেন বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।সংস্থাটি বলছে, ২০২৩ সালের প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণের তুলনায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঘুস লেনদেন বেশি হয়েছে, যার পরিমাণ এক হাজার ৭২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) এক দশমিক ৫৮ শতাংশ।

টিআইবি জানায়, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও আধা–সরকারি সেবা খাতে এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশকালে এতথ্য জানানো হয়। টিআইবির মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সেবা খাতের দুর্নীতির চিত্র বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এক খানা জরিপে এতথ্য উঠে এসেছে। খবর বাংলানিউজের।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনা কাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এক হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।

বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি ও ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবা। তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক পাঁচ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। জরিপে আরো দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন  শতবর্ষী মায়ের বসতভিটা সন্ত্রাসীদের দখলে

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন