ঢাকায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান

অনলাইন জুয়া-প্রতারণায় প্রতি মাসে ২০০-২৫০ কোটি টাকা পাচার

চীনা নাগরিকদের পরিচালিত সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান; ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিম ও ভিওআইপি সরঞ্জাম জব্দ, তদন্তে অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

শেয়ার করুন

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে এবং অনলাইন জুয়া-ভিত্তিক প্রতারণা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ডিবির দাবি, চক্রটি অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছিল।

গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)। তাদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক। ডিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

অভিযানকালে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি কল টার্মিনেশন, অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে ডিবি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের কাছে সাবলেট দেন। সেখানে তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সার্ভার পরিচালনা, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।

ডিবির তথ্যমতে, প্রতারক চক্রটি চাকরি, বিশেষ অফার কিংবা অল্প সময়ে বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইলে এসএমএস ও অনলাইন বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা ভুয়া ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করতেন এবং ধাপে ধাপে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও একই কৌশলে মানুষকে সম্পৃক্ত করা হতো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর জিএসএম গেটওয়ে ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে একাধিক বাহ্যিক সিম স্লট সংযুক্ত করে একই সঙ্গে ১২টি পর্যন্ত সিম পরিচালনা করা হতো। এতে প্রতারণার অভিযোগ এলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের প্রকৃত আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন-গোলাম মসীহ্

ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচারের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও দেশি-বিদেশি সদস্য জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক, অর্থের গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন