বাঁশখালীতে জোরপূর্বক জমি দখল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুচলেকায় তুলে নিলেন ঘেরা বেড়া

মোহাম্মদ এরশাদ (বাঁশখালী) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর পালেগ্রাম সাতকানিয়া পাড়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে।বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো: জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ দিনের বিরোধ মিমাংসা হওয়ায় এলাকাবাসী প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রাম সাতকানিয়া পাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর গাছ কাটার ঘটনায় আসামিরা অন্তবর্তী জামিনে এসেই বেপরোয়া হয়ে কাঁটাতারের ঘেরা ও পিলার দিয়ে চলাচল পথ বন্ধ করে দিয়ে জায়গা দখল করেন। এনিয়ে সেনাবাহি-নীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়ে। এর আগেও স্থানীয় ফারুক, আবদুল মুবিন, আজগর আলী, আবদুল কাদের ও রুবেলের নেতৃত্বে জায়গা জবর দখলের চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে বিগত ১১ ডিসেম্বর বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত উক্ত জায়গায় হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশনা দেন। তাছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাছ কেটে জায়গা দখল চেষ্টা সরাসরি পরিদর্শন করে জায়গা জবর দখল থেকে বিরত থাকতে কঠোর হুশিয়ারী দেন।আসামিরা তা অমান্য করে জামিনে এসে আবার মাওলানা মোহাম্মদ এয়াছিন এর মালিকানাধীন জায়গায় ফলজ গাছ কেটে লুটপাট চালিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে জায়গা জবর দখল করেন। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে ভুক্তভোগী বাগান মালিক।অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত (৮ জুলাই) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ,আনসার,স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বাদী পক্ষ ও আসামী পক্ষ উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে আসামি পক্ষ আদালতের আইন অমান্য করায় মুচলেকা দিয়ে ঘেরা বেড়া তুলে নেন।

আরও পড়ুন  নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাশ

কোকদন্ডী ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান,কালীপুর পালেগ্রাম সাতকানিয়া পাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা অবৈধভাবে জবরদখল করে ঘেরা বেড়া দেওয়ার সরকার ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়।ঘেরা বেড়া দেওয়ার অপশন থাকে সরকার যদি কাউকে বন্ধবস্তি দেয় সেই বন্ধবস্তির বলে দিতে পারেন।সরকারের কাছে যারা বন্দোবস্তি চেয়েছে তাদের সরকার তাদের নামে বন্দোবস্তি দিয়েছে দেওয়া জায়গায় বনজ ফলজ বাগান করবেন এটি স্বাভাবিক।অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় জবরদখল করার অভিযোগ পেয়ে গতকাল বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসীম উদ্দিন স্যারসহ আমরা ঘটনাস্থল গিয়ে সরকারি জায়গা এবং সরকার কতৃক বন্দোবস্তি দেওয়া জায়গায় অবৈধভাবে ঘেরা বেড়া আসামি পক্ষে তুলে নিতে বলে আসামি সাথে সাথে ঘেরা বেড়া তুলে নেয়।আগামীতে এধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।আইন অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আওতানা হবে বলে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: জসিম উদ্দিন জানান, পালেগ্রামের ওই জায়গায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। জনগণের চলাচল পথ উম্মুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গার বাইরেও সেখানে আরো ১৩ একরের মত সরকারি খাস জায়গা আছে। সরকারি সম্পত্তি ও জনগণের সম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আশা করি এর ফলে দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিরসন হবে।

বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান,কালীপুর পালেগ্রাম এলাকার ওই ঘটনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের উপস্থিতিতে সমাধান করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন