শীতে কাবু পুরো দেশ,পাল্লাদিয়ে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগ।এর মধ্যে ১২ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।
সোমবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়েছে, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে যাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়েছে, সারা দেশে রাত ও দিনের আপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
শীতে যাব তবু প্রাণ প্রকৃতি” তীব্র শীতের কষ্ট। প্রকৃতির এক বিশেষ বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত ,এটি শীতের দ্বৈত রূপ—একদিকে যেমন কষ্ট, অন্যদিকে তেমনই সৌন্দর্য ও নতুন জীবনের ইঙ্গিত।
শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে শহুরে জীবনেও। এ ঋতু পরিবর্তন শুধু যে কুয়াশা মোড়ানো সকাল আনে তা তো নয়, সঙ্গে আনে স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনও। শীতের আবহাওয়া শুষ্ক, ধুলাবালির মাত্রাটাও কিছুটা বেড়ে যায়। এ কারণে স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয়। শীতের শুরুতেই জ্বর, সর্দি ও কাশি যেন আঁকড়ে ধরে। তবে বেশি বাড়ে শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এসব রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে ভাইরাস।
সাধারণত ঠান্ডা ও ফ্লুর কারণে কাশি হয়। তবে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, শুষ্ক আবহাওয়া, ধূমপান, এমনকি কিছু কিছু ওষুধ সেবনের ফলেও এ সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় একবার কাশি শুরু হলে পিছু ছাড়তেই চায় না। একটানা খুকখুক কাশি বিরক্তিকরও বটে!
চট্টগ্রামের টানা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না। ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে পুরো উপজেলা জুড়ে শীতের প্রকোপ চরমভাবে অনুভূত হচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের আলো মিলছে না। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকে পুরো উপজেলা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে সামনের কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা জানান, তীব্র ঠান্ডার কারণে সকালে কাজে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ পেলেও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না, যা দৈনন্দিন আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বড়তাকিয়া বাজার এলাকার রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘ভোরে বের হলে শরীর কাঁপে, হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। যাত্রীও কম, আয় অর্ধেকেরও কমে গেছে।’
উত্তরবঙ্গ থেকে মিরসরাইয়ে কাজ করতে আসা দিনমজুর মো. আলমগীর জানান, ‘কাজ না করলে খাওয়াও জোটে না। কিন্তু এই শীতে কাজে দাঁড়ানোই কষ্ট। পরিবারে রুজি পাঠাতে পারি না, তাই দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
কৃষিখাতেও শীতের প্রভাব দেখা দিয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের চারা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তারা অভিযোগ করেন, সূর্যের আলো না থাকায় ক্ষেতের ফসল স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বা শীতবস্ত্র বিতরণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন মিরসরাইসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।


