দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জুম্মার নামাজে উদ্বোধন তাড়াইল মডেল মসজিদ

১৩ কোটি টাকায় নির্মিত আধুনিক স্থাপনায় একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ ১৭০০ মুসল্লির

আমিনুল ইসলাম রিপন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

শেয়ার করুন
  1. কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুম্মার নামাজ শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) তাড়াইল উপজেলা সভাপতি ছাদেকুর রহমান রতন, উপজেলা কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি হুমায়ুন রশিদ জুয়েল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, ইসলামি খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ এমদাদুল্লাহ এবং উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাইজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এই মসজিদটি নির্মিত হলেও বিভিন্ন জটিলতায় উদ্বোধন বিলম্বিত হয়। অবশেষে দীর্ঘ দেড় বছর পর বর্তমান সরকারের আমলে এর উদ্বোধন সম্পন্ন হলো।
    প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মডেল মসজিদটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী নামাজ আদায় করতে পারবেন।
    মসজিদটিতে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক অজু ও নামাজের ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমাম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, ইসলামিক লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, মৃতদেহ গোসল ও জানাজার সুবিধা, গাড়ি পার্কিং, হিফজখানা, প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা, দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সভাকক্ষ, ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থাসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হয়েছে।
    মনোরম পরিবেশে নান্দনিক ডিজাইনে নির্মিত এই মসজিদকে ঘিরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তারা এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জমিদাতা মরহুম হাজী গোলাম হোসেনের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই মডেল মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান হিসেবেই নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অংকুরের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাত গুণী'কে সম্মাননা'২৫ প্রদান
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন