চট্টগ্রামে এডাব-এর বিভাগীয় মতবিনিময় সভা

সরকার-এনজিও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান এডাব নেতৃবৃন্দের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এডাব-এর বিভাগীয় মতবিনিময় সভা: সরকার-এনজিও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান এডাব নেতৃবৃন্দের

নগরীর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশীর প্রধান কার্যালয়ে এডাব (Association of Development Agencies in Bangladesh)-এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে ৭ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় মতবিনিময় সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী পরিষদের ভাইস-চেয়ারপারসন ড. মো. আরিফুর রহমান, সদস্য সৈয়দা শামীমা সুলতানা ও কাজী মো. আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব এ কে এম জসীম উদ্দীন, কার্যনির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু, এডাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি রেজিয়া বেগম এবং বিটা’র নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত।
সভার শুরুতে বিশ্ব নাট্য দিবস ২০২৬ সম্মাননা প্রাপ্তিতে বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সাংবাদিক, নাট্যকার ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থিয়েটার আর্টস (বিটা)-এর নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্তকে এডাব চট্টগ্রাম জেলার পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও প্রাণঢালা অভিনন্দন প্রদান করা হয়। একই সাথে, এডাব কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সম্মানিত চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেনকেও বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল যাত্রার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সদস্য সচিব এবং প্রতিনিধিগণ সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নিজ নিজ জেলার উন্নয়ন সংগঠনসমূহের বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে অতিথিবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কার্যনির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য জেসমিন সুলতানা পারু উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং এডাব-এর নির্বাহী পরিচালক ও সদস্য সচিব এ কে এম জসীম উদ্দিন সভার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারের সঙ্গে এডাব-এর কার্যকর সম্পর্ক ও সখ্যতা গড়ে তুলে অ্যাডভোকেসির পথ আরও সুগম করতে হবে। প্রশাসনে এনজিওদের উপেক্ষা করার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। এডাব-এর সংগ্রামী চেতনা সকল সদস্যকে ধারণ করতে হবে; তবেই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এডাব-এর নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন কারণে এনজিও ও সরকারের মধ্যে একটি সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এডাবকে সেই দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্বল সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও অতীতের মতো এডাবকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি আবারও সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডাব কেন্দ্রীয় চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেন বলেন, “দেশ ও জাতির উন্নয়নে এনজিওগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আমরা শুধু স্বীকৃতির জন্য কাজ করছি না, আমাদের কাজের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের কল্যাণ। কারো স্বীকৃতি মিলুক বা না মিলুক, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ধারাকে বেগবান রাখতে এনজিওগুলোকে দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মনোয়ারা বেগম এডাব-এর ছায়াতলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজ নিজ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  মুনিরুল মান্নান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন