চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে : ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় নতুন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে চমেক হাসপাতালে রোগী ও লাশ নীতিমালায় বর্ণিত এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পূন:মূল্যায়ন বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লবি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে রোগী ও স্বজনরা সহজেই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায় নিতে হবে এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মেয়র আরও জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা গন্তব্যের জন্য নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস যাচাইয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সভায় তিনি ঘোষণা দেন, প্রবর্তক মোড় থেকে অলিখা মসজিদ পর্যন্ত এলাকাকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, ডাবের গাড়ি, খাবারের ভ্যান কিংবা অন্য কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং ফল ও ডাব বিক্রেতাদের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন  খাগড়াছড়িতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ শিথিল ১৪৪ ধারা বহাল

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ডাব ও তালের খোসা, প্লাস্টিক বোতল, টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করে। তাই এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা যাবে না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। এ জন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেখানে গ্রিন প্ল্যান্টেশন, ফুলের টব, গ্রাফিতি ও নান্দনিক সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, বাথরুম ও অন্যান্য সেবার মান তদারকির জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে ৭৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও স্বজনের চাপ থাকলেও অবকাঠামো সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভা শেষে হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং, ফল বিক্রেতাদের নির্ধারিত স্থান এবং নতুন ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মেয়র।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, ডিসি ট্রাফিক নেছার আহমেদ, চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাইফুদ্দীন সালাম মিটু, সালাউদ্দীন আলী, ডা. সামিউল করিম, বিআরটিএ প্রতিনিধি উথোয়াইনু চৌধুরী, চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী সহ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন