একদিনের সফরে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পেকুয়া পৌরসভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত, পরিবারকে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান

পেকুয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার কক্সবাজারের নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। পৌরসভার ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ পৌরসভার কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে তিনি জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী শনিবার বিকেল প্রায় ৩টায় প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলার দক্ষিণ মেহেরনামা এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে যান। সেখানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় শহীদের পিতা প্রবাসী শফিউল আলম ও মাতা জোসনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। এ সময় শহীদ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর পিতা শফিউল আলম ও মাতা জোসনা বেগমের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ফলক উন্মোচন করেন এবং পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০০৩ সালে আমার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়াকে স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ তাঁরই পুত্র হিসেবে আমি পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসেছি। এটি আমার মায়ের স্মৃতিবিজড়িত একটি উপজেলা। তাই এ উপজেলা ও পৌরসভার উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।”
তিনি পৌরসভার পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ, পেকুয়া পৌরসভার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই পাশে বিপুল সংখ্যক মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানান। তাঁর আগমন ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হওয়ার ফলে পেকুয়াবাসী উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং আরও কার্যকর জনসেবা লাভ করবেন। নবগঠিত পৌরসভার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পেকুয়ার উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

আরও পড়ুন  পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন