রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের উত্তর পোমরা এলাকায় গত সোমবার বিকালে প্রেমের ব্যর্থ হয়ে ফেজবুক ঘোষণা দিয়ে নিরব ইমন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।
জানাগেছে, নিরব ইমন মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে অকারণে কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।” অপর একটি স্ট্যাটাসে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার কথা লিখেছিলেন। দিয়েছিলেন কয়েকটি প্রেমিকার সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও তোলেন। তবে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত সোমবার দুপুরে পোমরা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মালিরহাটের নিকটস্থ সামতালুকদার বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা তাকে তার কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্থানীয়রা জানান, নিরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, ইমন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। গতকাল মোমবার তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীরা গভীর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনার সুত্রপাত থেকে জানাযায়,
গত ১৫ জুলাই রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার একটি অভিযোগের সূত্রধরে টগবগে যুবক নিরব ইমনের প্রেমের গল্প সামনে আসে। তার প্রতিবেশির মেয়ে উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী কে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে ডিস্টার্ব করে, প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে কুপ্রস্তাব দেয়। মেয়ে ঘরে এসে মাকে বললে মা ১৫ জুলাই মডেল থানায় অভিযোগ দেন। পরে ২৪ জুলাই উভয়পক্ষের বৈঠকে নিরব ইমনকে কোনো প্রকার ইভটিজিং, কুপ্রস্তাব, কটুক্তি, পিছু নেওয়া, উত্ত্যক্ত করা, তার কোনো ছবি কাউকে দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে মানসিক হয়রানি (সাইবার বুলিং) করা, তাকে বা তার পরিবারকে হুমকি দিবে না মর্মে অঙ্গিকারনামা দেয়।
এঘটনায় এলাকাবাসীরা মনে করেন, একটি তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক বিদায় আবারও মনে করিয়ে দেয়, মানসিক কষ্ট অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তাই পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের পারস্পরিক সহমর্মিতা, খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জহির উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর তার পিতা জহির আহমদ ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যোগদান করে। পিতাকে বিএনপির রাজনীতিতে না জড়ানোর নিষেধ করার পরও বিএনপির প্রোগ্রামে যাওয়ায় অভিমান করে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল।


