টেকনাফে মাদ্রাসার সম্পত্তি দখল করে মাদকসবীদের আড্ডা

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্পত্তি লুটপাটের অভিযোগ

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা :

শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাটাখালী হাফেজিয়া দারুল কোরআন ফুরকানিয়া মাদ্রাসা ও খানকাহর সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দখলে থাকা স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগও করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় টেকনাফ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শাহ সুফি আব্দুল কাদের ফকিরের একমাত্র ছেলে হাফেজ জালাল আহম্মদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০০৬ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদ্রাসার জায়গা-জমি, মার্কেটসহ বিভিন্ন সম্পত্তি দখলে নেন। এতে নগদ অর্থ ও সম্পদসহ প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও মার্কেটের আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।

হাফেজ জালাল আহম্মদ বলেন, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসক গত ২৩ জুন তাকে তিন বছরের জন্য বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে দখলে থাকা ব্যক্তিরা ওই সরকারি আদেশ মানছেন না এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি, মালিকানা ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ জালাল আহম্মদের ছেলে নুরুল আফসার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার জায়গা দখল করে রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসানো হয় এবং প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করা হয়। ওই স্থান থেকে মাদকসহ একজনকে আটকের ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নুরুল আমিন বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব ফরাজ খাতুন ছৈয়দ আমিনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট জায়গার মালিক ফকির সাহেব নন, ফরাজ খাতুন। মৃত্যুর আগে তিনি তাদের নামে জায়গাটি লিখে দিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আদালতের রায় ভুয়া বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন  দুর্গাপুর খাদ্যগুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ নষ্ট নিম্নমানের চাল উদ্ধার, ৩ জনকে বদলির পর মামলা

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ওয়াক্ফ মোতাওয়াল্লি নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দেখভাল ও পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপরই বর্তায়। কেউ এ নিয়ম অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

;