দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী রক্ষায় সরকার সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে নদীতীরের কোনো কল-কারখানা যদি হালদা নদীর পানি দূষণের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী খামারিদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
কৃষক কার্ডের আওতায় ক্ষুদ্র খামারিরা: ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সুবিধা দিতে ‘কৃষক কার্ডে’র আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খামারিরা সহজে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা, উৎপাদন উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
নিরাপদ খাদ্য ও পোল্ট্রি খাত: পোল্ট্রি খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ ও মানসম্মত
ফিড সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। উন্নতমানের ফিডের মান তদারকি বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন: দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
রপ্তানি ও প্রোটিনের উৎস: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই খাতকে আরও বেশি রপ্তানিমুখী করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ যোবায়েত হোসেন।

