বাঁশখালী উপকূলে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের জন্য মজুত করা ৪৯৬ ব্যাগ সিমেন্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের এই চোরাচালান বিরোধী অভিযানটি ৩০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে পরিচালিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর এটি গণমাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত হয়।দুটি বসতঘরে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা সিমেন্টের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুদুকখালীর ১ নম্বর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে নুরুল কবিরের বসতঘর থেকে সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। পরে একই ইউনিয়নের মোহাজের পাড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে আরও সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন স্থান থেকে সিমেন্টের বস্তা সংগ্রহ করে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সিমেন্ট মজুত করে রেখেছিলেন।পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে নুরুল কবির (৫৮), মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মো. ইসমাইলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৬), নুরুল কবিরের ছেলে আকবর (৩৬) এবং মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে আব্দুল মতলব (৫২)। তারা সবাই উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালীর বাসিন্দা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনও পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানার এসআই সুভাষ পাল বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের বাইরে সিমেন্ট পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল–এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৯৬ ব্যাগ সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

