বন্দর গেটে মারামারি, মাসুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ: অবর্ণনীয় জিম্মি দশায় চট্টগ্রাম

বিশেষ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম :

শেয়ার করুন

বন্দর গেট পাসের বাড়তি ফি দাবি এবং তা নিয়ে ট্রেইলর শ্রমিককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পণ্য পরিবহন ও কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। এর জেরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ যানজট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ থাকার পাশাপাশি গেট এলাকায় বিক্ষোভ চলায় পুরো চট্টগ্রাম শহরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কনটেইনার ডেলিভারি ও পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

কেন এই অচল অবস্থা?
শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের পাসের সরকার নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা। কিন্তু বন্দরের সিকিউরিটি কর্মীরা প্রবেশমুখে প্রতি পাসে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছিলেন। এর প্রতিবাদ জানান প্রাইম মুভারস ট্রেইলর শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেন। প্রতিবাদের মুখে ৫ নম্বর গেটে দায়িত্বরত বন্দরের সিকিউরিটি কর্মীরা তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন।প্রাইম মুভারস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের অভিযোগ করে বলেন, “বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানালে সিকিউরিটি কর্মীরা আমাদের কোষাধ্যক্ষকে মারধর করেন। ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ৪ নম্বর গেটে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমরা সেখানে গেলে আরেক দল লোক আমাদের দিকে তেড়ে আসে। নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এরপর থেকে আমরা পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দিই।”

গেটে শ্রমিকদের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের কারণে অন্য সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহনও আতঙ্কে চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে ইপিজেড, বন্দর এলাকা থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

ভোগান্তির চরম শিখরে সাধারণ মানুষ: কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া হুট করে বাস ও যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও কর্মজীবী মানুষ। অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারছিলেন না হঠাৎ কেন এই অচল অবস্থা।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ছিন্নমূল বস্তিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত এক,আহত ১৬

বহদ্দারহাটের বাসিন্দা ও পোশাককর্মী হামিদা আকতার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “সারাদিন কাজ শেষে ছুটির পর বাসায় ফিরব, এসে দেখি রাস্তায় কোনো গাড়ি চলছে না। কেন গাড়ি বন্ধ, তা-ও কেউ বলতে পারছে না। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর কোনো উপায় না দেখে হেঁটে রওনা হয়েছি, জানি না কখন ঘরে পৌঁছাব।”

যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা মাইক্রোবাস চালক জসিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইপিজেড এলাকায় দাঁড়িয়ে আছি। বন্দর সিকিউরিটির সঙ্গে শ্রমিকদের ঝামেলার কারণে পুরো শহরের লাখ লাখ মানুষকে এভাবে জিম্মি করে রাস্তা ব্লক করে রাখা সম্পূর্ণ অমানবিক।”

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া :বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ও অব্যবস্থাপনা মোটেই ঠিক নয়। রাস্তায় চলাচল সাধারণ মানুষের কি দোষ? তারা কেন এই মাসুল দিবে। মানুষকে জিম্মি করে কোন অধিকার আদায় করা যায় না।

বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: সমস্যা নিরসনে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বন্দর অভ্যন্তর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি আপাতত বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং দ্রুত সমাধান বের করতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই সমস্যার সুরাহা হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।”

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

;