মাদক-জুয়ামুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগ: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি

মাসে মাসে যাবে রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত রাখতে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (তথ্য অফিসার) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গঠিত এই প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রতি মাসে এসব কমিটির কার্যক্রমের ওপর রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসব প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে দাখিল করা হবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রচার ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে এর আগেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রস্তুতকৃত বিশেষ ডকুমেন্টারি ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দেয় মাউশি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে গুগল ফর্ম ও কিউআর কোডের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করেছিল।প্রসঙ্গত, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ প্রথম শুরু হয় ২০২২ সালে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তখন পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্কুল ও কলেজে এই কমিটি গঠন করেছিল। সেখান থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় পরবর্তীতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী এই কাঠামোগত কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

কমিটির মূল দায়িত্ব ও পরিধি:

  • সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল তুলে ধরা এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • প্রচার কার্যক্রম: নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার, শ্রেণিভিত্তিক আলোচনা, পোস্টার, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ।
  • তদারকি ও তথ্য প্রদান: যেকোনো মাদকসংক্রান্ত সন্দেহভাজন ঘটনা বা সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
  • কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য: শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অন্যান্য শিক্ষকদেরও উদ্বুদ্ধ করা।
আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের তালিকাভূক্ত  ৫২  রোগীকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুদান 
শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

;