খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৮ সেপ্টেম্বর নিজস্ব মিলনায়তনে”খাতুনগঞ্জের সংকট ও চ্যালেঞ্জ : বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের অপূর্ণতা নিরসন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে করণীয়” বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটি সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌং।

সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য মো: রাশেদ পারভেজের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আমিনুর রহমান। বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: আলমগীর পারভেজ, অর্থ সম্পাদক মো: নুরুল আলম মাষ্টার, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো: মহিউদ্দিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য শফিউল আলম বাদশা ও রাশেদ আলী।
ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন খাতুনগঞ্জের প্রবীণ ব্যবসায়ী মো: কামালউদ্দীন, বিএনপি পেশাজীবি পরিষদের নেতা ডা: সরোয়ার আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাব্বির সুলাইমান চৌধুরী, হাজী বেলাল হোসেন, হাজী নুরুল আকতার, এস.এম. মফিজউল্ল্যাহ ও হাজী ফেরদৌস ওয়াহিদ।ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা বলেন, বিশেষত ১৩টন ওজন স্কেল বৈষম্য, বন্দর কর্তৃপক্ষের অযাচিত মাশুল ও ভ্যাট, ৪গুন কন্টেইনার চার্জসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অবৈধ ও মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্য আমদানীর কারণে ভাল আমদানীকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীগণ চরম ক্ষতি ও দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব নানাবিদের সংকটের নিরসন চাই ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগ ব্যবসাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। তিনি বলেন , বিএনপি এমন একটি ইকো সিস্টেম চায়, যা ব্যবসায়ী বান্ধব। যাদের ব্যবসায়িক ট্রেক-রিপোর্ট ভালো এবং যারা সৎ, তারা যেন ব্যবসায় অগ্রাধিকার পান-এমন লক্ষেই কাজ করবে বিএনপি। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা যাবে না। বাংলাদেশে আমলাত্রান্তিক জটিলতার কারণে নতুন করে একটা ব্যবসা শুরু করতে তিন মাস দরকার হয়। অথচ বিভিন্ন দেশে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে গেলে মাত্র ১ থেকে ২ দিন সময় লাগে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতার লেয়ারকে ছোট করার পাশাপাশি ব্যবসায়াকে ফেসিলাইট করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুনাফাখোর, সুধখোর রয়েছে। তবে সব ব্যবসায়ী খারাপ না। ব্যবসায়ীদের টাইপ ট্যাগ দেওয়া হয় অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য। ভালো ব্যবসায়ীরা ১৫ বছর যাবত আওয়ামী লীগের আমলে সুযোগ পাননি। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমিও কোন লোন পাইনি। এভাবে অনেকেই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ব্যবসায়ী যদি সৎ হয়-সেই ব্যবসায়ী বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সুযোগ পাবেন। ব্যবসা বান্ধব ইকোনোমি গড়ে তুলবে বিএনপি। সৎভাবে ব্যবসা করলে ব্যবসায়ী যেন হেরেজমেন্ট না হন সেই ব্যবস্থা করবে বিএনপি। বৈরি পরিবেশে ব্যবসা করা সম্ভব না। আমরা সেই সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে চাই।
বিএনপি রাজনীতিতে গণতন্ত্র চর্চার কথা বলে মন্তব্য করে ইস্রাফিল খসরু বলেন, ব্যবসাতেও গণতন্ত্র দরকার। বেশ কয়েক মাস আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ইনভেস্টমেন্ট পজিশন পেপার প্রকাশ করা হয়েছে, যার নাম ছিল টার্গেট অব ওয়ান বিলিয়ন ডলার ইকোনোমি। ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হলে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র দরকার, সেটাই আমরা তুলে ধরেছি। মূল বিষয় হলো, যারা মেধাবী, সৎভাবে ব্যবসা করেন- তারা যেন সুযোগ পান। সবার জন্য সমান সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু গত ১৫ বছর যাবত অলিখিতভাবে কিছু লোকের হাতে অর্থনীতি জিম্ম ছিল। ওই ব্যবস্থাটি আমরা আর চাই না। আমরা চাই, যেন অর্থনৈতিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। যাদের যোগ্যতা, মেধা রয়েছে, যারা সৎ- তারা যেন ব্যবসায় সমানভাবে সুযোগ পায়।
