গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পটিয়ার হাইদগাঁও গ্রামে শামসুল আলম নামের এক কৃষককে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে ও মাথা থেতলে দেয় প্রতিবেশী ইউনুছ ও তার সহযোগীরা। এর ৮দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শামসুল আলম। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর নিহত শামসুল আলমের স্ত্রী সুমি আকতার বাদি হয়ে একটি হত্যা প্রচেস্টা মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর এটি খুনের মামলায় পরিণত হয়। ওই খুনের বিষয়কে আড়াল করতে খুনের প্রধান আসামির স্ত্রী নিহত শামসুল আলমের প্রতিবেশী ৮ জনের নামের একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। পটিয়া আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আরিফুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। মামলার বাদির স্বামীকে শামসুল আলম হত্যা মামলা থেকে বাঁচাতেই কৌশল হিসেবে এ মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন বাদি আছমা আক্তার।
খুনে অভিযুক্ত ইউনুছের স্ত্রীর ডাকাতি মামলাশা মসুলের চিকিৎসায় প্রতিবেশী এবং আত্মীয় স্বজন যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে গতবছরের ১ ডিসেম্বর খুনে অভিযুক্ত এবং গ্রেফতার ইউনুছের স্ত্রী আছমা আকতার বাদি হয়ে সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা নং-০৩/২০২৫ (পটিয়া থানা) দায়ের করেন। এ মামলায় স্বামীর দোকান থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট এবং হত্যা প্রচেস্টার কথা উল্লেখ করে ৮ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যেই প্রথম আসামি মোহাম্মদ ইদ্রিস গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক কমলমুন্সি হাট শাখার ম্যানেজার, ২নং আসামি মোহাম্মদ জাকারিয়া পটিয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক, ৩নং আসামি জামাল উদ্দিন ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংকের বিবিরহাট শাখার অফিসার, ৪ নং আসামি কামাল উদ্দিন একই ব্যাংকের বোয়ালখালী শাখার অফিসার, ৫নং আসামি আইয়ুব আলী বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার একাউন্টস অফিসার,আসামি মোহাম্মদ মামুন ইসলামি ব্যাংক ঢাকা মীরপুরের স্টাফ।
পুলিশের তদন্তে যা বেরিয়ে এলোপ টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আরিফুল ইসলামকে। তিনি সম্প্রতি আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থল পরির্দশনে ৮ জন স্বাক্ষীর নাম থাকলেও তাদের সাখ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলার বাদির সাথে কথা বলে ডাকাতির ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। উল্টো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে শামসুল আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়। পুলিশের তদন্তে দেখা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০২৪ সালের ২১ বিকেল ৪টায় শাসছুল আলম তার নিজ বাড়ী পূর্ব হাইদগাঁও থেকে পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ভাঙ্গাপুলে পৌছলে ডাকাতি মামলার বাদির স্বামী মুহাম্মদ ইউনুছের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাসছুল আলমের উপর হামলা করে। পরে ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এতে আছমা আকতারের স্বামী ইউনূসকে নম্বর আসামি করে ১৬ জসের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মুহাম্মদ ইউনুস গ্রেফতার জন। পরে পুলিশ প্রহরায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং চিকিৎসা শেষে ২৪ ডিসেম্বর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। ডাকাতি মামলার তদন্তে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতা স্বারক নং- চমেকহা/শাখ-৮ (জখমী সনদ) / ২০২৫/৩৭৫১, তারিখ- ১৬/০৩/২০২৫ইং মূলে চিকিৎসক দিদারুল হক মতামত প্রদান করেন মুহাম্মদ ইউনুছের শরীরের ৪টি জখম সাধারণ জখম ও ১টি জখম ভোতা অস্ত্রের।
এদিকে, নিহত শামসুল আলমের স্ত্রী বলেন, স্বামী হত্যা মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। না পেরে খুনের মামলার আসামির স্ত্রী আমাদের মামলাটিকে ভিন্নভাতে নিয়ে যেতে আমার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তে আমল সত্য বেরিয়ে এসেছে।


