চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায় পারিবারিক দ্বন্ধের জেরে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে এলাকার নিরিহ ও একটি ভদ্র পরিবারকে অহেতুক হয়রানী ও সুনাম ক্ষুন্নের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরনে প্রকাশঃ নবাব সিরাজদ্দৌলা রোডস্থ ১০৭ চন্দনপুরাস্থ মৃত আব্দুল মোনাফ সওদাগরের পরিবার এলাকায় সম্ভ্রান্ত ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের একটি পরিবার, মোনাফ সওদাগরের ৫ সন্তান হারুনর রশিদ, ফারুখ রশিদ, তারেক রশিদ, মোবারক আলী, রমজান আলী সুশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত এবং সরল প্রকৃতির। পাশাপাশি মৃত আব্দুস চাত্তার মোনাফ সওদাগরের সহোদর ভাই, তার দুসন্তান আব্দুল বারেক ও আব্দুর রাসেল। রাসেল প্রবাসে অবস্থান করলেও বারেক এলাকায় ঝগড়াটে ও মামলাবাজ নামেই খ্যাত। দীর্ঘ দিন ধরে মোনাফ সওদাগর পরিবার ও আব্দুস চত্তার পরিবারের মধ্যে বসত ভিটার কয়েক ফুট মাত্র অংশ নিয়ে বিরোধ থাকলেও আব্দুস চত্তারের পূত্র আব্দুল বারেক চলতি সালে চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ়আদালতে বিএস সংশোধনী একটি মামলা করেন। মামলা নং- এলএসটি-৫৬৩৫/২০২৫। প্রতিপক্ষ হারুন রশিদ ফারুখ রশিদ গং গত সেপ্টেম্বরেই আদালতে মামলাটির জবাব দিলে বারেক ক্ষিপ্ত হয়ে নানাভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানী করার কৌশল খুঁজতে থাকে। একিই দিন ৭ সেপ্টেম্বর হারুন রশিদ ফারুখ রশিদ গংয়ের ছোট ভাই রমজান আলীর শুভ বিবাহের গায়ে হলুদের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে মিউজিক বাজানোকে কেন্দ্র করে কাউকে কিছুই না জানিয়ে ৯৯৯-এ অভিযোগ করে পুলিশ এনে বিয়ের মেহেদী অনুষ্ঠানকে পন্ড করার অপচেষ্টা চালালেও হারুন রশিদ-ফারুখ গংরা নিজেদের পারিবারিক অনুষ্ঠানের সম্মান ও সুনাম রক্ষার্থে কোন ধরনের বিবাদে না জড়িয়ে সাউন্ড বক্সে মিউজিক বন্ধ করে দিলেও বারেক গায়ে পড়ে ঝগড়া সৃষ্ঠির অপচেষ্ঠা চালানোর সূত্র ধরে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এসময় বারেকের স্ত্রী ধাক্কা খেয়ে মাথার সামান্য অংশ ফেটে গেলে বারেক নিজে তার শরীরে ব্লেডের আঁছড় দিয়ে রক্ত বের করে গায়ে রক্তবর্নের রং লাগিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে তাদের উপর ়আক্রমন করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ করে চকবাজার থানায় সংগোপনে একটি মামলা করলে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে হারুনর রশিদ, ফারুখ রশিদ, মোবারক ়আলী ও রমজান আলীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে জেল হাজতে প্রেরন করে। একটি পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালিন আকস্মিক এমন ঘটনায় হারুন-ফারুখ গংয়ের পরিবার ও এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করে।
স্থানীয় রাজনীতিবীদ মুসা, বাবু সহ আরো অনেকে জানান, বিয়ের গায়ে হলুদের দিন, আমরা সবাই অনুষ্ঠানে ছিলাম, সাউন্ড বক্স বাজানোর সূত্র ধরে দুই পরিবারের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হলেও বিয়ে অনুষ্ঠানের সম্মানের কথা চিন্তা করে ফারুখ, হারুন, মোবারক,তারেক, রমজানরা অতিরিক্ত বিতর্ক এড়িয়ে যারযার মত শান্ত হয়ে যায়। পরে শুনি বারেক প্রতিপক্ষের বিরোদ্ধে মামলা করেছে এবং পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তারা ঘটনাে সুষ্ঠ তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটন পুর্বক প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছে। একিই সাথে তারা দাবী করেন মামলার বাদী বারেক ঐদিন তার বাইকে সস্ত্রীক কোথায় যাওয়ার সময় পথে এক্সিডেন্ট করেছে বলেও জানতে পেরেছিলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার ক্ষত চিহ্নকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও হয়রানী করতেই এ মামলা করেছেন বলে দাবী করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ হারুন-ফারুখ গং জানান, আমাদের দুই পরিবারে পুর্ব থেকে সামান্য মতবিরোধ থাকলেও তা আদালতে বিচারাধীন। বারেক মুলতঃ আমাদের সফলতা ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানী করতেই আমাদের বিরোদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করেছে।
এ ব্যাপারে বারেকের অভিমত জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্যঃ সুচতুর বারেক শুধু মামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সকলকে কাল্পনিক ফ্যাসিস্টের দোসর সাজিয়ে ফাঁসি দাবী করে এলাকায় বিপুল সংখ্যক রঙ্গিন পোস্টারিং করে এলাকায় হাস্যরসের সৃষ্ঠি করেছে।
চকবাজার থানার ওসির কাছে জানতে চাইলে বলেন, বাদী বারেক থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে, ঘটনার তদন্ত চলছে, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


